নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. সাইফুর রহমান মিন্টু মোল্লাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষকে মামলায় জড়ানো, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস কিংবা মামলা নিষ্পত্তির নামে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা গেছে। একই সময়ে, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি। এ ছাড়া, এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নৌকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি রাজিব নামের এক যুবককে পানিতে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। এ সময় হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘তুই মিন্টু মোল্লাকে মারতে এসেছিস, তাই তোকে আমরা মারছি।’ একপর্যায়ে রাজিব পানিতে তলিয়ে যান। কয়েক দিন পর তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের এক আত্মীয় বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
তবে হামলাকারীরা কেন মিন্টু মোল্লার নাম উল্লেখ করছিলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
রেলিগেট-নগরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা নিয়েছিলেন কামাল (মেম্বার) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁর কাছ থেকে ঘাট পরিচালনা ও টোল আদায়ের দায়িত্ব বুঝে নেন মিন্টু মোল্লা। এরপর থেকেই টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্ধারিত ১২৫ টাকা টোলের বিপরীতে ১ হাজার ১০০ টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় যানবাহনচালকদের দাবি, ঘাট পারাপারে কখনো কখনো নির্ধারিত টোলের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত টাকা দিতে হয়। ফেরিঘাটের ব্যবসা পরিচালনা নিয়েও মিন্টু মোল্লাকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিতর্কের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে,ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। ফলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতেও সাহস করেন না অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মিন্টু মোল্লারা বিএনপির জন্য অভিশাপ। তিনি বিএনপির ক্ষমতা ব্যবহার করে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।