ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

আন্তর্জাতিক

আমিরাতের ভিসার নিয়মে এলো বড় পরিবর্তন

আমিরাতের ভিসার নিয়মে এলো বড় পরিবর্তন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ এবং বসবাসের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংহত করতে ২০২৬ সালে ভিসার নিয়মনীতিতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা থেকে শুরু করে আবাসন এবং পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে, যা প্রবাসী, পর্যটক ও আবাসন বিনিয়োগকারীদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি।  ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মাধ্যমে চলতি বছরের এ পর্যন্ত যে ছয়টি প্রধান পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। প্রথম বড় পরিবর্তনটি এসেছে অন অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে। আইসিপি ১৪ দিন এবং ৬০ দিন মেয়াদী ইউএই এন্ট্রি ভিসার যোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে। আগে এই সুবিধাটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শুধু ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য থাকলেও, এখন থেকে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও এর আওতাভুক্ত হয়েছেন।  এছাড়া যোগ্য আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশর, ফিলিস্তিনকে জয় উৎসর্গ করলেন কোচ পর্যটকদের জন্য আরেকটি সুখবর এনেছে জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স। দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকরা অনুমোদিত পর্যটন অফিসগুলোর মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এককালীন প্রবেশাধিকার সংবলিত পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন, যার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবাসন খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুই বছরের সম্পত্তি-লিঙ্কড রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়ার শর্তেও বড় সংশোধন এনেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একক বিনিয়োগকারীদের জন্য আগের ন্যূনতম ৭,৫০,০০০ দিরহামের সম্পত্তির মূল্যের বাধ্যবাধকতাটি বাতিল করা হয়েছে, তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একমাত্র মালিক হতে হবে। আর যদি সম্পত্তিটি যৌথ মালিকানাধীন হয়, তবে রেসিডেন্সি ভিসার জন্য যোগ্য হতে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪,০০,০০০ দিরহাম হতে হবে। পাশাপাশি, ওভারস্টে জরিমানার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যে সমস্ত দর্শনার্থীদের সাময়িকভাবে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা ঘোষণা করেছে আইসিপি। বিশেষ পরিস্থিতি শেষ হয়ে যাওয়ায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসার মর্যাদা বৈধ করতে হবে অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনলাল পতাকায় পরিপূর্ণ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান, কফিনের ওপর আরবিতে কী লেখা চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে দুবাইয়ে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সুবিধার্থে একটি সমন্বিত স্মার্ট মেডিকেল ভিসা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে জিডিআরএফএ এবং দুবাই হেলথ অথরিটি। এই কৌশলগত চুক্তির লক্ষ্য হলো মেডিকেল ট্যুরিস্টদের দুবাই আগমনের আগে থেকে শুরু করে চিকিৎসা এবং ফলো-আপ পর্যন্ত ভিসা, রেসিডেন্সি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে একটি একক ও নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা। সর্বশেষ পরিবর্তনটি এসেছে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইবোলা-আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য ভিসা স্থগিতকরণের মাধ্যমে। ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।  ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপি-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হতে পারে। সূত্র: খালিজ টাইমস।

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান

রাজ্য সরকারের দাবি, সরকারি জমিতে তৈরি সেসব মাদ্রাসা ও ধর্মীয় স্থান সিল করে দেওয়া বা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।ওই রাজ্যের সাত জেলায় চালানো এই অভিযানের ফলে বহু মাদ্রাসায় পড়াশোনাও থমকে গেছে বলে অভিযোগ।রাজ্য সরকার নেপাল সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ধর্মীয় স্থান ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১৪ মে পর্যন্ত ২২৫টা মাদ্রাসা, ৩০ মসজিদ, ২৫টি মাজার ও ছয়টি ঈদগাহের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বিবিসিকে বলেছেন, মাদ্রাসা খুললে সেখানে শিক্ষাদান করেন, সেটাকে হোটেল বা আবাসস্থল বানিয়ে ফেলবেন না। সেখানে বিদেশিরা এসে বাস করলে আশঙ্কা তো সৃষ্টি হবেই।শিক্ষাদানের পরিবর্তে সেখানে অন্য কাজ করা হলে তার তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যারা নিরপরাধ, যারা সেখানে শুধু শিক্ষকতা করছেন, তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন।কী বলছে উত্তরপ্রদেশ সরকার?উত্তর প্রদেশ সরকার সন্দেহ করছে, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া যেসব মাদ্রাসা চালানো হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কাজ হয়।সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, এই রাজ্যের দু-একটা মাদ্রাসায় জাল নোট ছাপানো হচ্ছিল। সেগুলো পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে।তবে মাদ্রাসা সঞ্চালনকারীদের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার বাঙ্গাইয়ের মাদ্রাসার সঞ্চালক মেরাজ আহমেদ বলেন, এই এলাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোটামুটি। তবে দারিদ্র্য খুব বেশি। মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে লোকে লেখাপড়া করতে পারে। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য ভিন্ন।অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ- শুধু রাজনৈতিক কারণে সংখ্যালঘুদের নিশানা করছে সরকার।সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ফখরুল হাসান বলেন, যেখানেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানেই সংখ্যালঘু এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। এটা সংবিধানের লঙ্ঘন।সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন।কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র না থাকলে তার সমাধান অন্যভাবে হতে পারত।পাশাপাশি, তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যেসব মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজ নেই বলে এখন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যখন সেগুলো নির্মাণ হচ্ছিল সেই সময় কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন?বাহরাইচে চিহ্নিত ৪৯৫টি স্থাননেপালের সঙ্গে কয়েকশ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে উত্তর প্রদেশের। এটা উন্মুক্ত সীমান্ত যা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ওপর।প্রতিদিন নেপাল ও ভারতের হাজার হাজার মানুষ এই সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া আসা করেন।উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রূপাইডিহা সীমান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ নেপালগঞ্জে (নেপালের একটি শহর) যাতায়াত করেন। এখানে এসএসবির তরফে শুধু পরিচয়পত্র দেখে এবং তল্লাশির পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।এই এলাকায় ৪৯৫টি জবরদখল করা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২টার বেশি মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে।নানপাড়ার তহশিলদার অম্বিকা চৌধুরি বলেন, রাজস্ব বিভাগের দল জমির মাপঝোঁক করছে। সরকারি জমিতে যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাজস্ব ও সংখ্যালঘু বিভাগের দল প্রতিদিন পরিদর্শনের জন্য গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মাদ্রাসাগুলো সিল করে দেওয়া হচ্ছে।রূপাইডিহা থেকে থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রয়েছে রঞ্জিতবোঝা গ্রাম। এই গ্রাম নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান