ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
জীবনের চারিপাশ

জীবনের চারিপাশ

কালো আঁধারে রয়েছে ঢেকে আজ জীবনঘেরা চারিপাশ,চলছি একা নিভৃতে কালো আঁধারের মাঝে,একাকী জীবন।হতাশায় ছন্নছাড়া আঁকড়ে রয়েছে আজ দেহমন। তবুও জীবন আশাছন্ন আমার এক পথ চলা।চারিদিকে ছদ্মবেশী বহুরূপী মিথ্যের মাকড়শার মাঝে,ক্ষণে ক্ষণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে, হৃদয় যাচ্ছে দুমড়েমুচড়ে আঘাতে আঘাতে দেহমন আজ লৌহ-ইস্পাত।ধীরে ধীরে নিজেও যেন যাচ্ছি হয়ে, সেই বহুরূপী। পাপের প্রেতাত্মা করছে ভড়,বিবেকের বেড়াজালে।নিজেকেই যেনো চিনতে নাহি পারছি আজ।নিষ্পাপ হয়েও রইলাম আমি, বন্দী কাঠগড়ায় কুচক্রীরা খুঁজে পেলো আজ,নিষ্পাপ দমানোর কাজ।নিরপরাদ হয়েও আজ বড় অপরাধী।যাদের দিলাম বুকভরা ভালোবাসা, তারাই হলো আজ পর।সুখে দুঃখে ছিলাম পাশে,নেই তারা আজ আমার পাশে।সময় বলে ছিলো এক কথা, বুঝলো না তারা আজ।দিনের পরে রাত, রাতের পরে দিন আসবেই চিরকাল। চিৎকার করে কাঁদিতে পারিনা আমি,লোকালয়ের ভয়ে। মনখুলে বলিতে পারিনা আমি,পরিস্থিতি ছিলোনা আমার অনুকূলে। হৃদয়ের  হৃদপিন্ডের মাংসগুলো, চিঁড়ে চিঁড়ে খাচ্ছে আমায়।কিভাবে বোঝাবো জীবনের চারিপাশ, আজ আমার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।

বৈষম্য কাটিয়ে শ্রমিক বাঁচুক

আমি একজন শ্রমিক, এটাই আমার পরিচয়।কিন্তু তুমি ভুলে যাও শ্রমিকরাও মানুষ। কখনো জানতে চেয়েছো?  কতখানি বোবা কান্না জমে আছে আমার বুকে?জানতে চাইবেই বা কি করে? তুমি তো শিক্ষিত, ভদ্র, টাকাওয়ালা, বিনয়ী, সভ্যতার টিকাদারি নাম দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছো।এসব মিথ্যা জৌলুসের আড়ালে তুমি হারিয়েছ তোমার কোমল মনটিও।আমায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, তুমি যেন সাহেব বনে যাও।আমায় তুই তুকারি করে, তুমি পৈশাচিক আনন্দ খুঁজে পাও।আমার গা থেকে দূর্গন্ধ বের হয় বলে তুমি রোজ নাক শিটকাও।তুমি ভুলে যাও - আমার গা থেকে দূর্গন্ধ বের হয় বলেই তোমার গা থেকে পারফিউমের গন্ধ বের হয়। ভুলে যাও - আমার পাঁজর ভাঙা পরিশ্রমে গড়ে উঠে তোমার সুসজ্জিত প্রাসাদ।হতে পারে আমার গায়ে দামি পোশাক নেই, কিন্তু আমার নিখুঁত হাতে তৈরি হয় তোমার স্বপ্নের পোশাক।হাড় ভাঙা পরিশ্রম করিয়ে তুমি আমায় নাম মাত্র মাইনে দাও।অবসর বা আনন্দ সে তো আমার কাছে বিলাসিতা!মনে রেখো -আমার ঘাম দিয়ে ইতিহাস লেখা হয়।দেশের অর্থনীতির চাকা এগিয়ে যায়।

বৈষম্য কাটিয়ে শ্রমিক বাঁচুক

রাজনীতি ও বিপ্লবের কবিতা

নুষ স্বভাবতই একটি রাজনৈতিক প্রাণী।’ ফলে তার ভেতর রাজনীতি সচেতনতা কাজ করে ন্যাচারালি। আর সেই ব্যক্তি যদি কবি হন, তাহলে তার রাজনৈতিক চেতনা হয়ে ওঠে আরও তীক্ষ্ণ। কারণ কবি তো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না।আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ‘কবিরা সমাজ দেহের চক্ষু, বাগানের মুক্ত পাখি এবং সত্যের দর্পণ।’ এই সত্য চেতনা তাকে করে তোলে আরও বেশি রাজনীতিপ্রবণ। আরও বেশি রাজনৈতিক। আমাদের আলোচিত কবি আবদুল হাই শিকদারও একজন রাজনীতি সচেতন কবি। তার রাজনীতি সচেতনতার পরিচয় যেমন মাঠের আন্দোলনে অর্থাৎ কর্মে তেমনি কাব্যেও। সাম্প্রতি কবি রফিক লিটনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে কবি আবদুল হাই শিকদারের ‘রাজনীতি ও বিপ্লবের কবিতা’।শিরোনাম থেকে বোঝা যায় কবিতাগুলোর মেজাজ। ফলে নতুন করে বিষয়বস্তু নিয়ে আলাপ তুলে আপনাদের বিরক্ত করতে চাই না। তবে তার এ গ্রন্থটি পড়লে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি চিত্র পাওয়া যাবে। আমাদের জাতীয় জীবনের অর্জনগুলোকে তুলে এনেছেন তিনি। পাশাপাশি ভুল রাজনীতির চিত্রও দেখা যায়। এমনকি সদ্য পলাতক খুনি হাসিনার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের প্রকাশ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই ঘটেছিল, তার কিছু কাব্যিক প্রকাশ পাই কবির ‘এই বধ্যভূমি একদিন স্বদেশ ছিলো’ কবিতায়।তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ‘কে সিরাজদৌলা কে মীরজাফর’ এই কবিতার কিছু লাইন পড়া যাক: “শীতের রাতে যেটাকে কাশ্মীরি শাল বলে বার্তা পেয়েছিল জনপদ,/ ভোরের আলো ফোটার আগেই দেখা গেল,/ এ হলো সেই নেকড়ে যে মেষের চামড়া গায়ে জড়াতে জানে।/ ধার্মিকের ভান করে বেড রুমে ঢুকেছে জল্লাদ ট্রয়ের ঘোড়ার মতো মাসুম।” উপমার মাধ্যমে তুলে এনেছেন রাজনীতির ভেতরের গভীর ক্লেদকে। এটাই শিকদারীয় স্টাইল।তিনি বলেন তার মতো করে। তার এমন আরও দু-একটি কবিতার উদাহরণ উপস্থাপনের লোভ সংবরণ করতে পারছি না। আরও কিছু পঙ্ক্তি: “তুই জঘন্য তুই ইতর/ তুই তোর জন্মদাত্রী জননীকে অপবাদে মলিন করেছিস।/ নিজের সহধর্মিনীকে তুই মহাজনের শয্যায় যেতে বাধ্য করেছিস।/ তুই নপুংসক, তুই অমানুষ।!/ তুই মীরজাফরের চাইতেও নিকৃষ্ট/ তুই মইন ফখরের চাইতেও বেশি বেশি নেড়িকুত্তা!/ তোকে আমি তিন তালাক দিলাম।” (তালাকনামা)তার আলোচিত কবিতার মধ্যে একটি হলো ‘কসম’। এই কবিতার ভেতরে বিপ্লবের বীজ বপিত ছিল। যা তরুণ সমাজকে আলোড়িত করেছে বিভিন্ন সময়ে, সংগ্রামে, আন্দোলনে। এই কবিতার কয়েকটি লাইন থেকে তার নমুনা মিলবে। “কসম সালাম বরকত রফিক জব্বারের,/ কসম ১৯৭১ সালের,/ কসম কর্ণফুলীর তীরে অপেক্ষমাণ আমাদের ভবিষ্যতের,/ কসম শাহজালালের আজান ধ্বনির,/ কসম আমার মন্দির মসজিদ গির্জা প্যাগোডার,/ কসম লক্ষ লক্ষ শহীদের প্রতি ফোঁটা রক্তের,/; কসম কসম কসম আমরা এইসব করবো।/ তারপর জমজমের পানিতে ধুয়ে নেব মাতৃভূমির শ্রান্ত ক্লান্ত ব্যথিত শরীর।” তার ‘সাঈদ’ কবিতাটিও যদি লক্ষ করি সেখানেও দেখব বিপ্লবের সুর : “সাঈদ সাঈদ বলে ডেকে ডেকে পাড়া মাত করি,/ ও পুত্র, বাপ আমার, ফিরে আয় আগ্নেয় মশাল ধরি।” কিংবা “ঘাতকের হাতে রক্ত ঝরছে দেশে,/ আমরা রয়েছি রক্তের পরিবেশে।/ তবু বুক টান করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছ তুমি,/ তোমার গর্বে কাঁদছে মাতৃভূমি।/ 

রাজনীতি ও বিপ্লবের কবিতা

শ্যামলিমার গল্প

জারুল জামরুল বনে হৈমন্তী  হাওয়া বইছে, সেই হাওয়ায় হাফসার উসকোখুসকো চুলগুলো উড়ছে। অবহেলায় অযত্নে চুলের নীচগুলো ঝড়ে গেছে। যেটুকু আছে,,,তা সুপারি পাতার ন্যায় শুধু আকাশের দিকেই চেয়ে থাকে সারাক্ষণ। খানিক দূরেই তার বাবার বাড়ি,,, হাঁটতে হাঁটতে কখন যে পৌছে গেলো তা হাফসার চৈতন্যেই আসলো না। বাড়িতে ঢুকার সময় কী যেন মনে করে বাইবাড়ির গোয়ালঘরে একবার ঢু মেরে আসলো সে। উঠোনে এক কোণে বসে হাফসার মা ধানের সঙ্গে সখ্যতা করছেন। একটু পরেই দাওয়ায় বসবেন। হাফসার দিকে মায়ের চোখের ঝিলিক পরতেই তাকে বললেন  __কীরে হাফু, কই ছিলি এতক্ষণে? হাফসা জবাব দেয় না। কী করে মাকে বলবে মাঝিবাড়ির জলপাই গাছ থেকে জলপাই আনতে গেয়েছিল! তাও আবার চুরি করতে। পরনে তার ছেঁড়া জামা -পাজামা। উড়নাটা পেঁচিয়ে গলা থেকে কোমর পর্যন্ত গাইট বাঁধা। হাফসা তখনও নির্বাক। ভয়ে বুক কাঁপছে তার।এমন সময় মা বললেন,  " যা___ ঘর থেকে কুলা, ঝাটাই, আর পিঁড়িটা নিয়ে আায়"।একচুটে হাফসা ঘরে ঢুকে আর হাপাতে হাপাতে মনে মনে বলে, যাক" বাবা বাঁচা গেলো __তবে। হাফসা ঘর থেকে দাওয়ার সব জিনিসপত্র আনতে আনতে দেরি হওয়ায়, মা তাকে আরও দু'চারিটি ধমক শোনায়। যখন হাফসার হাত থেকে ঝাটাইটা মাটিতে নামাতে যায়, অমনি তার ওড়নার প্যাঁচে গিট বাঁধা কুটুরি থেকে দুটো জলপাই মাটিতে পড়ে যায়। মা দেখে ফেলে তৎক্ষনাৎ হাফসা ওগুলো কুড়িয়ে হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। " হতচ্ছাড়ি বাঁদড় " কোথায় গিয়েছিলি বল?  চুরি করতে নাকি? হাফসা আবারও নির্বাক তাকিয়ে রয়। সে বাকরুদ্ধ হয়ে ঠাঁই দাড়িয়ে থাকে দারোগা মায়ের সামনে।তার জবাব দিচ্ছে না দেখে মা তাকে, নারকেল পাতার সলার ঝাটাই দিয়ে পিঠাতে শুরু করতেই, হাফসা ফুড়ুৎ করে দৌড়ে একেবারে অন্তঃপুরের বাইরে চলে যায়। গোয়ালঘরের পেছনে দিঘির পাড়ে বাঁশের মাচায় বসে থাকে। হাফসা হাপাতে থাকে, পাশের কড়ই গাছ থেকে একটি শুকনো ডাল ভেঙে পরায় সে  থতমত খেয়ে যায় রীতিমতো। এই বুঝি মা আসছে "ঝাটাই নিয়ে"। ভয়ে ভয়ে পেছন ফিরে তাকায় সে। কই, না তো মা আসেনি। বরং ডাল ভেঙে পড়েছে উপর থেকে। আসলে কথায় আছে না! " চোরের মন পুলিশ পুলিশ"। সে এবার ভাবতে থাকে একটু নুন আনা যায় কি

শ্যামলিমার গল্প