ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপোর্টাল ‘আত্রাই বার্তা’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।আজ ২৯ জুলাই (বুধবার) দুপুরে দিনাজপুরের রামসাগর রেস্ট হাউসে আলোচনা সভা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।আত্রাই বার্তার সম্পাদক ও খানসামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং দৈনিক খবর একদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মোফাচ্ছিলুল মাজেদ।তিনি বলেন, "সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থ। অনলাইন গণমাধ্যমকে তথ্য পরিবেশনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিউর রহমান আতিক বলেন, "তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন গণমাধ্যম দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর বড় মাধ্যম। তবে দ্রুততার পাশাপাশি সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে।"অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী, আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী, অনলাইন পোর্টাল ‘মাইনিং সিটি’র প্রকাশক ও ‘ভোরের পাতা’র দিনাজপুর প্রতিনিধি লিমন হায়দার, ফুলবাড়ী অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ‘যুগান্তর’র ফুলবাড়ী প্রতিনিধি ইমাম রেজা এবং ‘গাজী টিভি’র জেলা প্রতিনিধি তনুজা শারমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সিকেন্দার আলী কাবুল। পরে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভা শেষে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আত্রাই বার্তার বার্তা সম্পাদক নেছারুল ইসলাম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিমল চন্দ্র দাস (পিসি দাস) ও মাসুদ রানা।এ সময় বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ওয়াহেদুর রহমান, দি Daily Morning Glory-র আবু কাওসার, খবর একদিনের সুমন চন্দ্র রায়, এমকে টেলিভিশনের কোয়াসিম সিদ্দিকী জনি, বিজয় টেলিভিশনের মেহেদী হাসান, বেলাল হোসেন ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

১ ঘন্টা আগে পড়ুন

খানসামায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম ও কৃষি প্রণোদনার উদ্বোধন

কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি কৃষি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে সরকারি কৃষিসেবা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া। তাই তথ্য সংগ্রহের সময় প্রত্যেক কৃষককে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিতে হবে।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির উৎপাদন ও আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ এবং কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষকদের দেওয়া বীজ ও অন্যান্য সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহারই কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষক কার্ড কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়ন এবং পরে সারা দেশের কৃষকদের এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের জন্য জমির পরিমাণ, আবাদকৃত ফসলসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কোনো ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তা ধরা পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এজন্য তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি কৃষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।হুইপ আরও বলেন, কৃষক কার্ড শুধু ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নয়; বড় কৃষক, বর্গাচাষি ও চুক্তিভিত্তিক চাষিরাও এ কার্যক্রমের আওতায় আসবেন। একটি নির্ভুল কৃষক ডাটাবেজ তৈরি হলে কার কত জমি রয়েছে, কোথায় কী ফসলের আবাদ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ কৃষি উপকরণ প্রয়োজন—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, কৃষিঋণ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে পারবে। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন আরও নিশ্চিত হবে।অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার তুলে দিয়ে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষকরা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উন্নতমানের হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কৃষি প্রণোদনা, কৃষি বীমা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র সংগ্রহ এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যও সহজে জানতে পারবেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, কৃষক কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষক সহজেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রাইভেটকারে ১৬ হাজার ইয়াবা, গ্রেফতার ২

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকার তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার নাসিরাবাদ এলাকার মৃত আ. আজিজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৬) ও মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মো. মিলন গাজী (৩৮)। দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে আমরা টোলপ্লাজা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার আটক করে তল্লাশি চালাই। এ সময় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে উন্মুক্ত হচ্ছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল

মার্কিন সরকারের অনুরোধে এক মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত এআই মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’ প্রকাশ্যে আনতে যাচ্ছে ওপেনএআই।  শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে—এমন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত মাসে এর মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি জটিল ও কয়েক দশকের পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোতে অত্যন্ত পরিশীলিত ও বড় ধরনের সাইবার হামলাকে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করতে পারে।  চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে এই উন্নত এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য ওয়াশিংটন উন্নত মডেলগুলোর মুক্তির ওপর স্ক্রিনিং বা নজরদারি বাড়িয়েছে।  অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষও সেদেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে, যাতে চীনের সবচেয়ে উন্নত এবং এখনো মুক্তি না পাওয়া এআই মডেলগুলোর বিদেশি অ্যাক্সেস সীমিত করা যায়।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনএকই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ এর আগে, গত ১২ জুন মার্কিন সরকারের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আদেশের পর ওপেনএআই-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যানথ্রপিক’ তাদের সবচেয়ে উন্নত মডেল—‘মিথোস ৫’ এবং ‘ফেবল ৫’ আকস্মিকভাবে সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল।  তবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সেফগার্ড নিশ্চিত করার পর গত সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।  অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘জিপিটি-৫.৬’ মডেলটি বড় পরিসরে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  এতদিন ওপেনএআই কেবল অল্প কিছু যাচাইকৃত পার্টনারদের এই মডেলটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যাদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল।  ওপেনএআই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, তারা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’-এর পাশাপাশি কম খরচের দুটি সংস্করণ ‘টেরা’ এবং ‘লুনা’ বাজারে ছাড়বে।  এদিকে, এই ঘোষণার পরপরই বুধবার (৮ জুলাই) ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআই-এর তৈরি শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল ‘গ্রোক ৪.৫’-ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।  সূত্র: রয়টার্স 

শিল্পসেবার বিস্তারেও গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষিনির্ভর

দেশে শিল্পায়নের প্রসার, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং সেবা খাতের দ্রুত বিকাশের পরও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এখনো কৃষি। খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, গ্রামীণ মানুষের আয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই কৃষিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৬’-এ সেই বাস্তবতাই নতুন করে উঠে এসেছে। বর্ষগ্রন্থ অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান বর্তমানে ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ খাতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার। ফলে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়লেও দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবাহ সচল রাখতে কৃষির ভূমিকা অপরিহার্য। বিবিএসের এ প্রকাশনায় দেশের কৃষি খাতের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন, আবাদি জমি, ফলন, মৎস্য, গবাদিপশু, বন, ভূমি ব্যবহার, কৃষি উপকরণ, আবহাওয়া এবং কৃষিপণ্যের আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কার্যকর কৃষিনীতি প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষগ্রন্থে দেশের ১৪৬টি প্রধান ও অপ্রধান ফসলের আবাদ, উৎপাদন ও ফলনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আউশ, আমন, বোরো, গম, আলু ও পাটের সর্বশেষ দুই বছরের এবং আরও ১৪০টি অপ্রধান ফসলের তিন বছরের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, কৃষিশ্রমিকের মজুরি, সেচ, বীজ ও সার ব্যবহারের তথ্যও সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কৃষি উৎপাদন মূলত খরিফ ও রবি—এই দুই মৌসুম ঘিরে আবর্তিত হয়। খরিফ মৌসুমে ধানসহ বর্ষাভিত্তিক ফসল এবং রবি মৌসুমে গম, আলু, ডাল ও তেলবীজসহ শীতকালীন ফসল উৎপাদিত হয়। দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতিতে এই দুই মৌসুমের অবদানই সবচেয়ে বেশি। ফসল উৎপাদনের হিসাব নির্ধারণে বিবিএস মাঠপর্যায়ের সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকের সাক্ষাৎকার—উভয় পদ্ধতির তথ্য ব্যবহার করেছে। প্রধান ফসলের ক্ষেত্রে দুটি উৎসের তথ্য মিলিয়ে চূড়ান্ত উৎপাদনের হিসাব নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত নমুনা জরিপ ও কৃষি শুমারির তথ্যও এতে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশনায় দেশের ৩০টি কৃষি-বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চলের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। মাটির ধরন, ভূপ্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসব অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় জমিকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, যাতে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা ও উপযোগী ফসল নির্বাচন সহজ হয়। বিবিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন মূল্যায়ন এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার জন্য সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অপরিহার্য। যদিও বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না, তবুও সেগুলো পুনর্গঠন করে প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হয়। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কৃষি খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি কৃষি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে সরকারি কৃষিসেবা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া। তাই তথ্য সংগ্রহের সময় প্রত্যেক কৃষককে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিতে হবে।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির উৎপাদন ও আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ এবং কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষকদের দেওয়া বীজ ও অন্যান্য সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহারই কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষক কার্ড কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়ন এবং পরে সারা দেশের কৃষকদের এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের জন্য জমির পরিমাণ, আবাদকৃত ফসলসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কোনো ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তা ধরা পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এজন্য তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি কৃষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।হুইপ আরও বলেন, কৃষক কার্ড শুধু ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নয়; বড় কৃষক, বর্গাচাষি ও চুক্তিভিত্তিক চাষিরাও এ কার্যক্রমের আওতায় আসবেন। একটি নির্ভুল কৃষক ডাটাবেজ তৈরি হলে কার কত জমি রয়েছে, কোথায় কী ফসলের আবাদ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ কৃষি উপকরণ প্রয়োজন—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, কৃষিঋণ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে পারবে। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন আরও নিশ্চিত হবে।অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার তুলে দিয়ে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষকরা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উন্নতমানের হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কৃষি প্রণোদনা, কৃষি বীমা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র সংগ্রহ এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যও সহজে জানতে পারবেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, কৃষক কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষক সহজেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকার তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার নাসিরাবাদ এলাকার মৃত আ. আজিজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৬) ও মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মো. মিলন গাজী (৩৮)। দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে আমরা টোলপ্লাজা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার আটক করে তল্লাশি চালাই। এ সময় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মার্কিন সরকারের অনুরোধে এক মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত এআই মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’ প্রকাশ্যে আনতে যাচ্ছে ওপেনএআই।  শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে—এমন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত মাসে এর মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি জটিল ও কয়েক দশকের পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোতে অত্যন্ত পরিশীলিত ও বড় ধরনের সাইবার হামলাকে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করতে পারে।  চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে এই উন্নত এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য ওয়াশিংটন উন্নত মডেলগুলোর মুক্তির ওপর স্ক্রিনিং বা নজরদারি বাড়িয়েছে।  অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষও সেদেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে, যাতে চীনের সবচেয়ে উন্নত এবং এখনো মুক্তি না পাওয়া এআই মডেলগুলোর বিদেশি অ্যাক্সেস সীমিত করা যায়।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনএকই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ এর আগে, গত ১২ জুন মার্কিন সরকারের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আদেশের পর ওপেনএআই-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যানথ্রপিক’ তাদের সবচেয়ে উন্নত মডেল—‘মিথোস ৫’ এবং ‘ফেবল ৫’ আকস্মিকভাবে সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল।  তবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সেফগার্ড নিশ্চিত করার পর গত সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।  অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘জিপিটি-৫.৬’ মডেলটি বড় পরিসরে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  এতদিন ওপেনএআই কেবল অল্প কিছু যাচাইকৃত পার্টনারদের এই মডেলটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যাদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল।  ওপেনএআই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, তারা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’-এর পাশাপাশি কম খরচের দুটি সংস্করণ ‘টেরা’ এবং ‘লুনা’ বাজারে ছাড়বে।  এদিকে, এই ঘোষণার পরপরই বুধবার (৮ জুলাই) ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআই-এর তৈরি শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল ‘গ্রোক ৪.৫’-ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।  সূত্র: রয়টার্স 

দেশে শিল্পায়নের প্রসার, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং সেবা খাতের দ্রুত বিকাশের পরও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এখনো কৃষি। খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, গ্রামীণ মানুষের আয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই কৃষিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৬’-এ সেই বাস্তবতাই নতুন করে উঠে এসেছে। বর্ষগ্রন্থ অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান বর্তমানে ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ খাতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার। ফলে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়লেও দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবাহ সচল রাখতে কৃষির ভূমিকা অপরিহার্য। বিবিএসের এ প্রকাশনায় দেশের কৃষি খাতের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন, আবাদি জমি, ফলন, মৎস্য, গবাদিপশু, বন, ভূমি ব্যবহার, কৃষি উপকরণ, আবহাওয়া এবং কৃষিপণ্যের আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কার্যকর কৃষিনীতি প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষগ্রন্থে দেশের ১৪৬টি প্রধান ও অপ্রধান ফসলের আবাদ, উৎপাদন ও ফলনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আউশ, আমন, বোরো, গম, আলু ও পাটের সর্বশেষ দুই বছরের এবং আরও ১৪০টি অপ্রধান ফসলের তিন বছরের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, কৃষিশ্রমিকের মজুরি, সেচ, বীজ ও সার ব্যবহারের তথ্যও সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কৃষি উৎপাদন মূলত খরিফ ও রবি—এই দুই মৌসুম ঘিরে আবর্তিত হয়। খরিফ মৌসুমে ধানসহ বর্ষাভিত্তিক ফসল এবং রবি মৌসুমে গম, আলু, ডাল ও তেলবীজসহ শীতকালীন ফসল উৎপাদিত হয়। দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতিতে এই দুই মৌসুমের অবদানই সবচেয়ে বেশি। ফসল উৎপাদনের হিসাব নির্ধারণে বিবিএস মাঠপর্যায়ের সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকের সাক্ষাৎকার—উভয় পদ্ধতির তথ্য ব্যবহার করেছে। প্রধান ফসলের ক্ষেত্রে দুটি উৎসের তথ্য মিলিয়ে চূড়ান্ত উৎপাদনের হিসাব নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত নমুনা জরিপ ও কৃষি শুমারির তথ্যও এতে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশনায় দেশের ৩০টি কৃষি-বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চলের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। মাটির ধরন, ভূপ্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসব অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় জমিকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, যাতে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা ও উপযোগী ফসল নির্বাচন সহজ হয়। বিবিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন মূল্যায়ন এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার জন্য সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অপরিহার্য। যদিও বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না, তবুও সেগুলো পুনর্গঠন করে প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হয়। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কৃষি খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু মঞ্চ, মিলনায়তন কিংবা বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনজীবনে প্রতিদিনের অনুষঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বাস, ট্রেন, বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপরিসরে নজরুলের গান, কবিতা ও বাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মানবিক, সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও বিস্তৃত হবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দিনব্যাপী এক সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মত তুলে ধরেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, গবেষক, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, নজরুলচর্চাকে রাজধানীকেন্দ্রিক রাখলে জাতীয় কবির সৃষ্টির প্রকৃত বিস্তার সম্ভব নয়। তাই জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরুল উৎসব, গবেষণা কার্যক্রম, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে দেশের বাইরে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর সাহিত্য ও সংগীত নতুনভাবে পরিচিতি পায়। বক্তারা বলেন, নজরুলের গান শুধু শিল্পীদের পরিবেশনের বিষয় নয়; তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তা শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের চর্চা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত, গবেষণা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব শোনেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চাই পারে মাদক, উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে লোকসংস্কৃতি ও জাতীয় কবির সাহিত্য-সংগীতকে শিক্ষার মূলধারায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ সময় তিনি প্রাথমিক স্তর থেকেই নজরুলের গান, কবিতা ও লেখাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে একাডেমি বছরজুড়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। শিল্পী ও গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে সেসব কর্মসূচিকে আরও জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর করে তোলাই এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। উপস্থিত ছিলেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, ফেরদৌস আরা, কল্পনা আনাম, ফাতেমা তুজ জোহরা, সুজিত মোস্তফা প্রমুখ।  

১৩ জুলাই ২০২৬
ধানমণ্ডি-গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

ধানমণ্ডি-গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

ধানমণ্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (Sewage Treatment Plant–STP) স্থাপন-সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ, নজরুল সরোবরের নির্মাণ এবং ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপন-সংক্রান্ত প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া গুলশান ও বারিধারা লেকে সংযুক্ত সব অবৈধ বর্জ্য নির্গমন লাইন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাজউকের নেতৃত্বে গুলশান লেকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও প্রাকনির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার লেকসমূহের পুনরুদ্ধার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপনের বিষয়ে কয়েকটি উপস্থাপনা পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন এবং রাজধানীর পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১২ জুলাই ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

শিগগিরই জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাদুঘরের কমিটি কিছুটা এলোমেলো ছিল। জাদুঘর খুলে দেওয়ার বিষয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারসহ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, জাদুঘর খুলে দেওয়ার বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তারা দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করেছে। গত ১৮ থেকে ২০ বছরে শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের মতামতের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। নির্বাচনের নামে প্রহসন চলেছে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লা মহানগরীর সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ জুলাই ২০২৬
মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ও নতুন আমদানি নীতি অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ও নতুন আমদানি নীতি অনুমোদন

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর খসড়া অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এই নতুন কর্তৃপক্ষ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধনসহ সব সরকারি সেবা পাবেন, যার ফলে কাজের দ্বৈততা কমবে। এছাড়া সরকারের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনা উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ গঠন করা হবে এবং এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এই পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’। অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬-২০২৯) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা এলসি বা লেটার অব ক্রেডিটের পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন। রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই নীতিতে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাদের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক আমদানি নিষিদ্ধ করা হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু সিমেন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

১০ জুলাই ২০২৬
মেহেরপুরে গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০

মেহেরপুরে গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০

মেহেরপুরের গাংনীতে গরু বোঝাই ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন (৩৬) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বুধবার দুপুরে উপজেলার রাইপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রলিচালক মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। আহতরা হলেন—মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫), সাবদার আলী (৫০), রফিকুল ইসলাম (৫০), চকশ্যামনগরের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী (৪৮), ইসরাফিল হোসেন (৫০), যাদবপুরের নাজমুল হোসেন (৩৫), বামনপাড়ার রাজা হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)। আহত মেহেরপুর শহরের বামনপাড়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুর থেকে ১০ জন ট্রলি বোঝাই গরু নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পশুহাটে যাওয়ার পথে রাইপুর বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই ট্রলিচালক উজ্জ্বল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ জন।  প্রত্যক্ষদর্শী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি গরু বোঝাই ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। গাড়িতে থাকা লোকজন ও গরু গাড়ির নিচে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে গাড়ি উঁচু করে লোকজনকে বের করে এবং গরুগুলোকে দড়ি কেটে বের করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, উজ্জ্বল হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন। আহতদের বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।  গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

০৮ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগর ও সীতাকুণ্ডে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক নারী। বুধবার দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। নিহত সুমাইয়া চশমা পাহাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনের ছেলে মারা যায়। একই ঘটনায় তার মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আহত শিশুটির মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত চার দিন ধরে সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  

০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

আগামীকাল বৃহ্স্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ কথা জানিয়েছেন। আজ বুধবার সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে সরকার আগামী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে। আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ধারাবাহিকতায় বনায়ন কার্যক্রমকে এক নতুন ও আধুনিক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তারেক রহমান। তার গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম প্রবেশ করেছে ‘স্মার্ট’ ফরেস্ট্রির আধুনিক যুগে। সেখানে প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন এক নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা ও ‘স্মার্ট ফরেস্ট্রি’-এর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হলো: স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ। জিআইএস এবং রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা চারাগাছসমূহের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ সারাদেশে রোপণ করা বৃক্ষের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি গাছের টিকে থাকার হার ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তিনি আরো বলেন, ফোনে প্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্গম চরাঞ্চল বা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল ঘন সৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে এই বনায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩.৫ লক্ষাধিক নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে। এতে করে গ্রামীণ নারী ও যুবসমাজ নার্সারি ব্যবসা এবং রক্ষনাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন দফতরের প্রধান কর্মকর্তারা। সূত্র : বাসস

০৮ জুলাই ২০২৬

আত্রাই বার্তার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপোর্টাল ‘আত্রাই বার্তা’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।আজ ২৯ জুলাই (বুধবার) দুপুরে দিনাজপুরের রামসাগর রেস্ট হাউসে আলোচনা সভা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।আত্রাই বার্তার সম্পাদক ও খানসামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং দৈনিক খবর একদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মোফাচ্ছিলুল মাজেদ।তিনি বলেন, "সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থ। অনলাইন গণমাধ্যমকে তথ্য পরিবেশনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিউর রহমান আতিক বলেন, "তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন গণমাধ্যম দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর বড় মাধ্যম। তবে দ্রুততার পাশাপাশি সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে।"অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী, আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী, অনলাইন পোর্টাল ‘মাইনিং সিটি’র প্রকাশক ও ‘ভোরের পাতা’র দিনাজপুর প্রতিনিধি লিমন হায়দার, ফুলবাড়ী অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ‘যুগান্তর’র ফুলবাড়ী প্রতিনিধি ইমাম রেজা এবং ‘গাজী টিভি’র জেলা প্রতিনিধি তনুজা শারমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সিকেন্দার আলী কাবুল। পরে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভা শেষে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আত্রাই বার্তার বার্তা সম্পাদক নেছারুল ইসলাম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিমল চন্দ্র দাস (পিসি দাস) ও মাসুদ রানা।এ সময় বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ওয়াহেদুর রহমান, দি Daily Morning Glory-র আবু কাওসার, খবর একদিনের সুমন চন্দ্র রায়, এমকে টেলিভিশনের কোয়াসিম সিদ্দিকী জনি, বিজয় টেলিভিশনের মেহেদী হাসান, বেলাল হোসেন ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সুজন চন্দ্র রায় ১ ঘন্টা আগে
সুজন চন্দ্র রায়
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

জেলার খবর

উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন। সোমবার (২০ জুলাই) বিকালের এই বৈঠকে আলোচনা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন। তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্য খাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পান। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০৮ জুলাই ২০২৬
ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

রাজধানীর মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএমপির মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, মিরপুর মডেল থানা থেকে ৪১ জন, পল্লবী থানা থেকে ৪২ জন, কাফরুল থানা থেকে ৮ জন, দারুস সালাম থানা থেকে ৯ জন, শাহআলী থানা থেকে ৫ জন, ভাষানটেক থানা থেকে ৬ জন এবং রূপনগর থানা থেকে ৯ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য, বিভিন্ন নিয়মিত ও পূর্বের মামলার আসামি, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদককারবারি ও মাদকসেবী রয়েছে। এছাড়াও অভিযানের সময় বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন থানার অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মিরপুর ক্রাইম ডিভিশন জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। সূত্র : বাসস

সুপ্রিম কোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। টানা তিন দিন শুনানির পর আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অপর আপিলটি করেন। আদালতে সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। এসময় তার সাথে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া অপর আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে সুজন সম্পাদকসহ পাঁচ ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেন হাইকোর্টে পৃথক রিট হয়। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর এই দু’টিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে গণভোটের বিধান-সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ (দ্বাদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে আনা) পুনর্বহাল করা হয়। সেই সাথে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল না করে, অন্য বিধানগুলোর বিষয়ে আইন অনুসারে পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট

স্নাতক বা ডিপ্লোমা পাসেই মিনিস্টারে চাকরি, পদসংখ্যা ২০

জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ‘শোরুম ম্যানেজার’ পদে ২০ জন কর্মী নিয়োগ দেবে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। পদের নাম: শোরুম ম্যানেজার (কমিশন বেসড)। পদসংখ্যা: ২০ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডিপ্লোমা/স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাস। অভিজ্ঞতা: ২–৬ বছর। বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে। বয়সসীমা: ২৬-৩৮ বছর। চাকরির ধরন: বেসরকারি। প্রার্থীর ধরন: পুরুষ। কর্মস্থল: যেকোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। সুযোগ-সুবিধা: মোবাইল বিল, উৎসব বোনাস, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, সাপ্তাহিক ছুটিসহ কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ আগস্ট, ২০২৬। সূত্র: বিডিজবস আরও পড়ুন:

০৮ জুলাই ২০২৬
স্নাতক বা ডিপ্লোমা পাসেই মিনিস্টারে চাকরি, পদসংখ্যা ২০
কোন পোস্ট নেই !
ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

রাজধানীর মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএমপির মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, মিরপুর মডেল থানা থেকে ৪১ জন, পল্লবী থানা থেকে ৪২ জন, কাফরুল থানা থেকে ৮ জন, দারুস সালাম থানা থেকে ৯ জন, শাহআলী থানা থেকে ৫ জন, ভাষানটেক থানা থেকে ৬ জন এবং রূপনগর থানা থেকে ৯ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য, বিভিন্ন নিয়মিত ও পূর্বের মামলার আসামি, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদককারবারি ও মাদকসেবী রয়েছে। এছাড়াও অভিযানের সময় বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন থানার অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মিরপুর ক্রাইম ডিভিশন জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

অনুমোদিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

অনুমোদিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

দীর্ঘ প্রায় অর্ধ দশক পর দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রদলের পাচঁ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি মো: রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে কৃষি অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মো: এহেসানুল কবির অর্ণবকে সভাপতি এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২০ থেকে ২১ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচের মো: মাসুদ রানাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে কৃষি অনুষদের ২০১৬ থেকে ১৭ শিক্ষাবর্ষের মো: সানজিদুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ২০২১ থেকে ২২ শিক্ষাবর্ষের মো: রুকুনুর জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯ থেকে ২০ শিক্ষাবর্ষের রিদওয়ান হাসানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আংশিক এই কমিটিকে আগামী ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।