ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

অপরাধ

শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। সূত্র : বাসস

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

রাজধানীর মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডিএমপির মিরপুর ক্রাইম ডিভিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, মিরপুর মডেল থানা থেকে ৪১ জন, পল্লবী থানা থেকে ৪২ জন, কাফরুল থানা থেকে ৮ জন, দারুস সালাম থানা থেকে ৯ জন, শাহআলী থানা থেকে ৫ জন, ভাষানটেক থানা থেকে ৬ জন এবং রূপনগর থানা থেকে ৯ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য, বিভিন্ন নিয়মিত ও পূর্বের মামলার আসামি, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদককারবারি ও মাদকসেবী রয়েছে। এছাড়াও অভিযানের সময় বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন থানার অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মিরপুর ক্রাইম ডিভিশন জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পলাতক ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেফতাদের একাংশ

সাবেক সংসদ সদস্য মো: ওমর ফারুক সুমন

জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মো: ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। তিনি নওগাঁ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আজ বুধবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জামসেদ আলম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। গ্রেফতার দেখানো শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে ‘ময়ূর ভিলা’র সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যাচেষ্টার শিকার হন মো: সোহেল রানা। দীর্ঘদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ১১ জুন মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি। সূত্র : বাসস

সাবেক সংসদ সদস্য মো: ওমর ফারুক সুমন

সুপ্রিম কোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। টানা তিন দিন শুনানির পর আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অপর আপিলটি করেন। আদালতে সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। এসময় তার সাথে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া অপর আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে সুজন সম্পাদকসহ পাঁচ ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেন হাইকোর্টে পৃথক রিট হয়। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর এই দু’টিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে গণভোটের বিধান-সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ (দ্বাদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে আনা) পুনর্বহাল করা হয়। সেই সাথে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল না করে, অন্য বিধানগুলোর বিষয়ে আইন অনুসারে পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট