ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

জাতীয়

নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু মঞ্চ, মিলনায়তন কিংবা বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনজীবনে প্রতিদিনের অনুষঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বাস, ট্রেন, বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপরিসরে নজরুলের গান, কবিতা ও বাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মানবিক, সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও বিস্তৃত হবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দিনব্যাপী এক সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মত তুলে ধরেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, গবেষক, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, নজরুলচর্চাকে রাজধানীকেন্দ্রিক রাখলে জাতীয় কবির সৃষ্টির প্রকৃত বিস্তার সম্ভব নয়। তাই জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরুল উৎসব, গবেষণা কার্যক্রম, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে দেশের বাইরে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর সাহিত্য ও সংগীত নতুনভাবে পরিচিতি পায়। বক্তারা বলেন, নজরুলের গান শুধু শিল্পীদের পরিবেশনের বিষয় নয়; তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তা শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের চর্চা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত, গবেষণা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব শোনেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চাই পারে মাদক, উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে লোকসংস্কৃতি ও জাতীয় কবির সাহিত্য-সংগীতকে শিক্ষার মূলধারায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ সময় তিনি প্রাথমিক স্তর থেকেই নজরুলের গান, কবিতা ও লেখাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে একাডেমি বছরজুড়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। শিল্পী ও গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে সেসব কর্মসূচিকে আরও জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর করে তোলাই এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। উপস্থিত ছিলেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, ফেরদৌস আরা, কল্পনা আনাম, ফাতেমা তুজ জোহরা, সুজিত মোস্তফা প্রমুখ।  

ধানমণ্ডি-গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

ধানমণ্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (Sewage Treatment Plant–STP) স্থাপন-সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ, নজরুল সরোবরের নির্মাণ এবং ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপন-সংক্রান্ত প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া গুলশান ও বারিধারা লেকে সংযুক্ত সব অবৈধ বর্জ্য নির্গমন লাইন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাজউকের নেতৃত্বে গুলশান লেকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও প্রাকনির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার লেকসমূহের পুনরুদ্ধার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপনের বিষয়ে কয়েকটি উপস্থাপনা পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন এবং রাজধানীর পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধানমণ্ডি-গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

শিগগিরই জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাদুঘরের কমিটি কিছুটা এলোমেলো ছিল। জাদুঘর খুলে দেওয়ার বিষয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারসহ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, জাদুঘর খুলে দেওয়ার বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তারা দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করেছে। গত ১৮ থেকে ২০ বছরে শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের মতামতের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। নির্বাচনের নামে প্রহসন চলেছে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক ও বীমা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লা মহানগরীর সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ও নতুন আমদানি নীতি অনুমোদন

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর খসড়া অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এই নতুন কর্তৃপক্ষ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধনসহ সব সরকারি সেবা পাবেন, যার ফলে কাজের দ্বৈততা কমবে। এছাড়া সরকারের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনা উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ গঠন করা হবে এবং এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এই পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’। অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬-২০২৯) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা এলসি বা লেটার অব ক্রেডিটের পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন। রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই নীতিতে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাদের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক আমদানি নিষিদ্ধ করা হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু সিমেন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ও নতুন আমদানি নীতি অনুমোদন

মেহেরপুরে গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০

মেহেরপুরের গাংনীতে গরু বোঝাই ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন (৩৬) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বুধবার দুপুরে উপজেলার রাইপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রলিচালক মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। আহতরা হলেন—মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫), সাবদার আলী (৫০), রফিকুল ইসলাম (৫০), চকশ্যামনগরের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী (৪৮), ইসরাফিল হোসেন (৫০), যাদবপুরের নাজমুল হোসেন (৩৫), বামনপাড়ার রাজা হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)। আহত মেহেরপুর শহরের বামনপাড়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুর থেকে ১০ জন ট্রলি বোঝাই গরু নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পশুহাটে যাওয়ার পথে রাইপুর বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই ট্রলিচালক উজ্জ্বল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ জন।  প্রত্যক্ষদর্শী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি গরু বোঝাই ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। গাড়িতে থাকা লোকজন ও গরু গাড়ির নিচে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে গাড়ি উঁচু করে লোকজনকে বের করে এবং গরুগুলোকে দড়ি কেটে বের করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, উজ্জ্বল হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন। আহতদের বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।  গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মেহেরপুরে গরু বোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগর ও সীতাকুণ্ডে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক নারী। বুধবার দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। নিহত সুমাইয়া চশমা পাহাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনের ছেলে মারা যায়। একই ঘটনায় তার মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আহত শিশুটির মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত চার দিন ধরে সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

আগামীকাল বৃহ্স্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ কথা জানিয়েছেন। আজ বুধবার সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে সরকার আগামী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে। আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ধারাবাহিকতায় বনায়ন কার্যক্রমকে এক নতুন ও আধুনিক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তারেক রহমান। তার গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম প্রবেশ করেছে ‘স্মার্ট’ ফরেস্ট্রির আধুনিক যুগে। সেখানে প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন এক নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা ও ‘স্মার্ট ফরেস্ট্রি’-এর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হলো: স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ। জিআইএস এবং রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা চারাগাছসমূহের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ সারাদেশে রোপণ করা বৃক্ষের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি গাছের টিকে থাকার হার ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তিনি আরো বলেন, ফোনে প্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্গম চরাঞ্চল বা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল ঘন সৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে এই বনায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩.৫ লক্ষাধিক নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি হবে। এতে করে গ্রামীণ নারী ও যুবসমাজ নার্সারি ব্যবসা এবং রক্ষনাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন দফতরের প্রধান কর্মকর্তারা। সূত্র : বাসস

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু