ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

বিশ্ব

মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্য নিহত

মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্য নিহত

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর মাহশাহরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ওই আইআরজিসি সদস্য নিহত হন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে অবস্থানরত আইআরজিসির ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র নির্ধারিত পথই একমাত্র নিরাপদ রুট। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক এই হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অঙ্গীকারের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে। সূত্র: আল জাজিরা।

হরমুজের আশপাশে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য তেহরান দায়ী। এর জবাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর সামা টিভি অনলাইনের।  এ হামলার ফলে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন এবং পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে গেছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত গোলার খণ্ডে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মিনাবের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি মাছ ধরার জেটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকটি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, শত্রুপক্ষের হামলার কারণেই ওই এলাকায় কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ইরানের প্রেস টিভি জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী সিরিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে জানানো হয়, সিরিকে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও মাছ ধরার জেটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, বন্দর আব্বাসের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপ এবং জ্বালানি রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর আসে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং প্রণালির আশপাশে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর ৬০টির বেশি ছোট নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, সমঝোতা লঙ্ঘিত হলে প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তু আঘাত হানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র জানায়, একটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে এবং সৌদি পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছিল।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ভয়াবহ ধ্বংসেও টিকে রইল এই ভবন, আহত হননি কোনো বাসিন্দা সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া একটি বিশেষ লাইসেন্সও বাতিল করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অবস্থানকালে এই হামলার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ ইরানই নির্ধারণ করবে। ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ভয়ভীতি ও জবরদস্তির যুগ শেষ। তেহরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’ এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান বাহরাইনের দিকেও ড্রোন পাঠিয়েছে। একই সময়ে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত মাসে প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর চলমান আলোচনা সত্ত্বেও এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

হরমুজের আশপাশে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘বাতিল’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা অত্যন্ত খারাপ মানুষ। তাদের নেতৃত্বও খারাপ মানুষের হাতে। তারা সহিংস। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত। আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি শেষ।’ তবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। যদিও তিনি আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা শুধু সময় নষ্ট করছে।’ ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প আরও জানান যে, তিনি তার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদকে ন্যাটোর একটি ‘ভয়াবহ অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আগের হামলাগুলোর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি তৈরি করেছে। সিএনএনের এক কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালিয়েছে। হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর মাহশাহর ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বন্দর মাহশাহরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার জবাবে ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি, তেল নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তার ভাষায়, ‘ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ। ইরান নতি স্বীকার করবে না।’ খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। পরে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী উভয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ বলেন, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলা প্রমাণ করে যে তেহরান এখনো উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘বাতিল’: ট্রাম্প

‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ সংবাদ সম্মেলনে গত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আবেগঘন সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আরবিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘এই পৃথিবীতে যদি এমন একজন মানুষও থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না—তাহলে তিনি মানুষই নন।’ তিনি আরও বলেন, এটি প্রযোজ্য, ‘আরব, ইউরোপীয়, আমেরিকান বা অন্য যেকোনো পরিচয়ের’ ব্যক্তিই হোন না কেন। ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি বৈশ্বিক উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় কোনো প্রাণীর ক্ষতি হলে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়, অথচ ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, শিশু ও নারী নিহত হচ্ছেন।’ হাসান ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ফুটবলের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি ফুটবলকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, অনুগ্রহ করে—সব ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী, তাঁদের ধর্ম বা দেশের পরিচয় যাই হোক না কেন, হয়তো বিশ্বকাপের মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে পারি—অনুগ্রহ করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাঁরা কিছুই চান না, শুধু বেঁচে থাকতে চান।’ তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের পর হাসানকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরে মিসরের টুর্নামেন্টে অগ্রযাত্রা উদযাপন করেন। তাঁর এই প্রতীকী পদক্ষেপ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। হাসানের বক্তব্য আরব বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকেই বলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর একটিকে তিনি খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাসানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি হাসানের অবস্থানকে ‘মানবিক ও মহৎ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাঁর ‘আন্তরিক সংহতির’ প্রশংসা করেন। মিসরীয় ক্রীড়া সাংবাদিক আহমেদ এল-এরিয়ানও এক্সে হাসানের বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কোনো আসরে মিসর জাতীয় দলের একজন সদস্যের মুখে এমন বক্তব্য তিনি কখনো শোনার কথা কল্পনাও করেননি। এরিয়ান বলেন, হাসানের বক্তব্য ঐতিহাসিক মনে হয়েছে, কারণ তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল ‘আন্তরিক’ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল ‘ধারাবাহিক।’ তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, হাসানের এই বক্তব্য তাঁকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মিসরের যাত্রাপথের একটি গর্বের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ফিলিস্তিনি লেখক ইয়াসের জাআতরেহ এক্সে লেখেন, হাসান ‘বিশ্বকাপের চেয়েও বড় গৌরব’ অর্জন করেছেন। তাঁর ভাষায়, হাসান ‘মানবতা ও নীতির ম্যাচে’ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অটল থেকে হাসান ‘জনগণ এবং বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা মানুষের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক’ অর্জন করেছেন। কায়রোতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সালিহ মুতলু সেনও এক্সে হাসানের প্রশংসা করেন। মিসর ও আল আহলির সাবেক গোলরক্ষক আহমেদ শোবেইরও এক্সে লেখেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে হাসান ‘অসাধারণ’ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের পতাকা প্রতিটি মিসরীয় ও প্রতিটি আরবের হৃদয়ে রয়েছে।’ আল জাজিরাও এক্সে গাজা থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হাসানকে ধন্যবাদ ও সম্মান জানাচ্ছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজার বাসিন্দারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের জন্য মিসরের এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, অনেকের কাছে হাসানের বক্তব্য ছিল ফুটবলের সম্মান ও ফেয়ার প্লের ভাষাকে মাঠের বাইরেও মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান। হাসান বলেন, ‘ফিফার স্লোগানে যেমন বলা হয়, ‘সম্মান ও ফেয়ার প্লে’, আমরাও জীবনে ন্যায়বিচার চাই। আমরা মানুষের প্রতি সম্মান চাই। আমরা চাই এই সত্যের প্রতি সম্মান জানানো হোক যে, একজন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’

‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ

বিশ্ব বাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলা ও ইরানের ওপর তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া সাময়িক ছাড় প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।  বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বুধবার (৮ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। সম্প্রতি যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসা তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।  একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টোকিও ও সিউলে বড় ধরনের দরপতন হলেও তাইপে ও হংকংয়ের বাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও সৌদি আরব। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ও বাতিল করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান শুরু হয়েছে। যদিও তেহরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। অস্ট্রেলিয়ার আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ এখনও সমাধান হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিকের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় এবং জরুরি তেল মজুত ছাড় কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। তার আশঙ্কা, ইরান যদি প্রণালির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়, তবে দীর্ঘ সময় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সূত্র: আলজাজিরা

বিশ্ব বাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরাক–সিরিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাক ও সিরিয়া। তিনটি সিরীয়, পশ্চিমা ও ইরাকি সূত্র গত সোমবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক জোটের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আঞ্চলিক শিবির থেকে দেশ দুটির সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে। সিরীয় সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি অথবা তাঁর সফরসঙ্গী ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফাঁকে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্রের ভাষ্য, এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে হোয়াইট হাউসে আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বৈঠকের পর। সিরীয় সূত্রটি আরও জানায়, বাগদাদ ও দামেস্কের মধ্যকার এই চুক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করবেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক। চলমান কারিগরি ও রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব দেশও এতে যোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, একটি ইরাকি সূত্র আল-জাইদির সঙ্গে সিরীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতও করেনি, তবে অস্বীকারও করেনি। তবে আগের ইরাকি সরকারের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, আল-জাইদির দল সিরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরেকটি ইরাকি সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জুলাই শুরু হয়ে প্রায় চার দিনব্যাপী আল-জাইদির ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর তিনি টেক্সাস সফর করবেন, যেখানে বড় বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে। এক ইরাকি সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকই সফরের প্রধান এজেন্ডা। তবে তিনি অন্য কোনো দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরাকি সরকার সমান্তরালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছে। প্রথমত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এনে সেগুলোকে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরাকের ওপর ইরানের প্রভাব কমানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখায় বাগদাদও ক্রমশ ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-জাইদির সরকার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এটি এমন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, যা বাগদাদ, ওয়াশিংটন ও তেহরানের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। ইরাক বর্তমানে তেল রপ্তানির পথ বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি প্রচলিত সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, সিরিয়া নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যের আঞ্চলিক করিডর হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা করছে। পশ্চিমা সূত্রটি জানিয়েছে, সিরিয়ায় মার্কিন দূত টম বারাক ইরাক ও সিরিয়াকে ঘিরে তাঁর কৌশলকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো ইরাক, সিরিয়া এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের স্বার্থকে একত্রিত করে একটি ‘নতুন স্বার্থভিত্তিক জোটের মূল ভিত্তি’ গড়ে তোলা। এই জোটের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত রুট তৈরি হবে, যা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাবে। প্রস্তাবিত রূপে চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিফলন হবে। এতে ইরাককে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের সঙ্গে সংযুক্তকারী আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি প্রবাহ পুনর্গঠনে সিরিয়াকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়া হবে। এক ইরাকি গবেষকের মতে, আল-জাইদির এই সফর ইরাকের আঞ্চলিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি রূপান্তরমূলক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি অনেকটা ২০২৫ সালের নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার হোয়াইট হাউস সফরের মতো, যেটিকে সিরিয়ার ইরানপন্থী শিবির থেকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শিবিরে সরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আকিল আব্বাস বলেছেন, ওয়াশিংটনে আল-জাইদির সফরের গুরুত্ব অনেকটাই আল-শারার সফরের মতো। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই বিশ্লেষকের মতে, আল-শারার সফরের মূল তাৎপর্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানে থাকা একটি দেশ থেকে সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী জোটের অংশীদারে পরিণত হওয়া। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন চায় ইরাকও একই পথে এগিয়ে যাক। তবে সেটি হতে হবে সুস্পষ্ট, পরিমাপযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে, যার মধ্যে আঞ্চলিক জ্বালানি পাইপলাইন সংযোগকারী প্রকল্পগুলোও থাকবে। আব্বাসের ভাষায়, ‘ওয়াশিংটন চায়, বাগদাদ-দামেস্ক জোটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব কমে আসুক এবং ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধ শুরু হলে ওই প্রণালির প্রভাব সীমিত হয়ে যাক।’

ইরাক–সিরিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের পথে যুক্তরাষ্ট্র

ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত চায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তদন্ত শুরুর জন্য সমর্থন জোরদার করছেন কয়েক ডজন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে এই তদন্তের দাবি উঠেছে। গত ১ জুলাই বিশ্বকাপের ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তাঁর নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতির কাছে তদবির করার পর ফিফা ওই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। ফলে গত সোমবারের ম্যাচে খেলার অনুমতি পান বালোগান। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স এবং নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে লাল কার্ডের স্থগিতাদেশের নিয়ম পরিবর্তন করা একটি লজ্জাজনক ঘটনা এবং এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আবারও দেখলাম যে ইনফান্তিনো এবং ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’ ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা ইইউভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তাঁরা ফিফা এথিক্স কমিটিকে (নৈতিকতা কমিটি) এই বিষয়ে তদন্ত করতে বাধ্য করে। তাঁরা দেখতে চান, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভূমিকা রেখেছিল কি না। একই সঙ্গে, ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ (ফিফা শান্তি পুরস্কার) দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলোকে ফিফার ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের’ সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ফিফা দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির (শাস্তিমূলক কমিটি) নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এই তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘খেলার সৌন্দর্যই হলো এটি একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে চলে। ইনফান্তিনো যখন রাজনৈতিক চাপের মুখে কে খেলবে আর কে খেলবে না তা নির্ধারণের সুযোগ দেন, তখন খেলার সেই ন্যায্যতা সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।’ এদিকে সর্বশেষ আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচেও ফিফার রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে মিসর।

ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত চায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট