ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।  বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সিনিয়র তথ্য অফিসার (জনসংযোগ কর্মকর্তা) মো. রেজুয়ান খান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই বৈরী আবহাওয়া থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সব জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে সর্বাত্মক পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন এবং আমাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কঠিন এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করার প্রতি বিশেষ জোর দেন। উল্লেখ্য, ৪২ বছরের রেকর্ড ভেঙে হওয়া এই ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগর ও সীতাকুণ্ডে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক নারী। বুধবার দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। নিহত সুমাইয়া চশমা পাহাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ির ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ মাস বয়সী আশরাফুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনের ছেলে মারা যায়। একই ঘটনায় তার মা লামিয়া আক্তার মাটিচাপা পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আহত শিশুটির মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত চার দিন ধরে সীতাকুণ্ডে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু