ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে উন্মুক্ত হচ্ছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে উন্মুক্ত হচ্ছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল

মার্কিন সরকারের অনুরোধে এক মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং উন্নত এআই মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’ প্রকাশ্যে আনতে যাচ্ছে ওপেনএআই।  শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে—এমন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত মাসে এর মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি জটিল ও কয়েক দশকের পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোতে অত্যন্ত পরিশীলিত ও বড় ধরনের সাইবার হামলাকে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করতে পারে।  চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে এই উন্নত এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য ওয়াশিংটন উন্নত মডেলগুলোর মুক্তির ওপর স্ক্রিনিং বা নজরদারি বাড়িয়েছে।  অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষও সেদেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে, যাতে চীনের সবচেয়ে উন্নত এবং এখনো মুক্তি না পাওয়া এআই মডেলগুলোর বিদেশি অ্যাক্সেস সীমিত করা যায়।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনএকই সময়ে সূর্যের আলো পাবে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ এর আগে, গত ১২ জুন মার্কিন সরকারের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আদেশের পর ওপেনএআই-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যানথ্রপিক’ তাদের সবচেয়ে উন্নত মডেল—‘মিথোস ৫’ এবং ‘ফেবল ৫’ আকস্মিকভাবে সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল।  তবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সেফগার্ড নিশ্চিত করার পর গত সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।  অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘জিপিটি-৫.৬’ মডেলটি বড় পরিসরে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  এতদিন ওপেনএআই কেবল অল্প কিছু যাচাইকৃত পার্টনারদের এই মডেলটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যাদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল।  ওপেনএআই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানায়, তারা তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’-এর পাশাপাশি কম খরচের দুটি সংস্করণ ‘টেরা’ এবং ‘লুনা’ বাজারে ছাড়বে।  এদিকে, এই ঘোষণার পরপরই বুধবার (৮ জুলাই) ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআই-এর তৈরি শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল ‘গ্রোক ৪.৫’-ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।  সূত্র: রয়টার্স 

ইরান মার্কিন হামলার পর আরও ৩ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড ওয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম আজ বুধবার প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাময়িক ছাড় (ওয়েভার) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় আজ বুধবার ভোর ৪টা পর্যন্ত সেপ্টেম্বর ডেলিভারির (অর্থাৎ, যেসব তেলের জন্য এখই চুক্তি হবে কিন্তু সরবরাহ করা হবে সেপ্টেম্বরে) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ০৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। এর আগে যুদ্ধসংক্রান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও সৌদি আরব ইরানকে দায়ী করেছে। এর পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘এক ধারাবাহিক শক্তিশালী হামলা’ শুরু করেছে, যাতে তেহরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে বাধ্য করা যায়। যদিও তেহরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরান এর আগে সতর্ক করেছিল যে, তাদের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানি তেলের ওপর দেওয়া ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছাড় প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় মান সময় রাত ১২টা ১ মিনিটের পর এসব লেনদেন আর বৈধ থাকবে না। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের পর নতুন কোনো তেল ক্রয়, বিক্রয় বা জাহাজে তেল বোঝাইয়ের অনুমোদনও বাতিল করা হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই সিদ্ধান্তকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তেহরান জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজি অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট ভাষা রাখা হয়েছিল। তাঁর মতে, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলপথ নাকি আংশিকভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য কখনোই পুরোপুরি দূর হয়নি। গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটে সাইকামোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা উত্তেজনার দ্রুত অবসান ঘটাবে, নাকি ইরান বৃহত্তর যুদ্ধ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আরও পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বাজারকে অস্থির রাখবে এবং আপাতত তেলের দামের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। এমএসটি মারকুইয়ের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকা এবং জরুরি তেল মজুত ছাড়ের কার্যক্রম কমে আসায় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করতে চাইছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এর ফলে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাঝেমধ্যে নতুন করে সংঘাত দেখা দিতে পারে।

ইরান মার্কিন হামলার পর আরও ৩ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম

মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্য নিহত

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর মাহশাহরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ওই আইআরজিসি সদস্য নিহত হন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে অবস্থানরত আইআরজিসির ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র নির্ধারিত পথই একমাত্র নিরাপদ রুট। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক এই হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অঙ্গীকারের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে। সূত্র: আল জাজিরা।

মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্য নিহত

ইরাক–সিরিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাক ও সিরিয়া। তিনটি সিরীয়, পশ্চিমা ও ইরাকি সূত্র গত সোমবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক জোটের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আঞ্চলিক শিবির থেকে দেশ দুটির সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে। সিরীয় সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি অথবা তাঁর সফরসঙ্গী ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফাঁকে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্রের ভাষ্য, এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে হোয়াইট হাউসে আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বৈঠকের পর। সিরীয় সূত্রটি আরও জানায়, বাগদাদ ও দামেস্কের মধ্যকার এই চুক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করবেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক। চলমান কারিগরি ও রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব দেশও এতে যোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, একটি ইরাকি সূত্র আল-জাইদির সঙ্গে সিরীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতও করেনি, তবে অস্বীকারও করেনি। তবে আগের ইরাকি সরকারের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, আল-জাইদির দল সিরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরেকটি ইরাকি সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জুলাই শুরু হয়ে প্রায় চার দিনব্যাপী আল-জাইদির ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর তিনি টেক্সাস সফর করবেন, যেখানে বড় বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে। এক ইরাকি সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকই সফরের প্রধান এজেন্ডা। তবে তিনি অন্য কোনো দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরাকি সরকার সমান্তরালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছে। প্রথমত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এনে সেগুলোকে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরাকের ওপর ইরানের প্রভাব কমানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখায় বাগদাদও ক্রমশ ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-জাইদির সরকার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এটি এমন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, যা বাগদাদ, ওয়াশিংটন ও তেহরানের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। ইরাক বর্তমানে তেল রপ্তানির পথ বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি প্রচলিত সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, সিরিয়া নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যের আঞ্চলিক করিডর হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা করছে। পশ্চিমা সূত্রটি জানিয়েছে, সিরিয়ায় মার্কিন দূত টম বারাক ইরাক ও সিরিয়াকে ঘিরে তাঁর কৌশলকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো ইরাক, সিরিয়া এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের স্বার্থকে একত্রিত করে একটি ‘নতুন স্বার্থভিত্তিক জোটের মূল ভিত্তি’ গড়ে তোলা। এই জোটের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত রুট তৈরি হবে, যা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাবে। প্রস্তাবিত রূপে চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিফলন হবে। এতে ইরাককে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের সঙ্গে সংযুক্তকারী আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি প্রবাহ পুনর্গঠনে সিরিয়াকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়া হবে। এক ইরাকি গবেষকের মতে, আল-জাইদির এই সফর ইরাকের আঞ্চলিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি রূপান্তরমূলক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি অনেকটা ২০২৫ সালের নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার হোয়াইট হাউস সফরের মতো, যেটিকে সিরিয়ার ইরানপন্থী শিবির থেকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শিবিরে সরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আকিল আব্বাস বলেছেন, ওয়াশিংটনে আল-জাইদির সফরের গুরুত্ব অনেকটাই আল-শারার সফরের মতো। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই বিশ্লেষকের মতে, আল-শারার সফরের মূল তাৎপর্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানে থাকা একটি দেশ থেকে সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী জোটের অংশীদারে পরিণত হওয়া। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন চায় ইরাকও একই পথে এগিয়ে যাক। তবে সেটি হতে হবে সুস্পষ্ট, পরিমাপযোগ্য এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে, যার মধ্যে আঞ্চলিক জ্বালানি পাইপলাইন সংযোগকারী প্রকল্পগুলোও থাকবে। আব্বাসের ভাষায়, ‘ওয়াশিংটন চায়, বাগদাদ-দামেস্ক জোটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব কমে আসুক এবং ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধ শুরু হলে ওই প্রণালির প্রভাব সীমিত হয়ে যাক।’

ইরাক–সিরিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের পথে যুক্তরাষ্ট্র