ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ


নিউজ ডেক্স
নিউজ ডেক্স
| প্রিন্ট | ফটো কার্ড

‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ
মিসর জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান। ছবি: এএফপি

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ সংবাদ সম্মেলনে গত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আবেগঘন সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আরবিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘এই পৃথিবীতে যদি এমন একজন মানুষও থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না—তাহলে তিনি মানুষই নন।’ তিনি আরও বলেন, এটি প্রযোজ্য, ‘আরব, ইউরোপীয়, আমেরিকান বা অন্য যেকোনো পরিচয়ের’ ব্যক্তিই হোন না কেন।

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি বৈশ্বিক উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় কোনো প্রাণীর ক্ষতি হলে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়, অথচ ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, শিশু ও নারী নিহত হচ্ছেন।’ হাসান ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ফুটবলের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি ফুটবলকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, অনুগ্রহ করে—সব ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী, তাঁদের ধর্ম বা দেশের পরিচয় যাই হোক না কেন, হয়তো বিশ্বকাপের মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে পারি—অনুগ্রহ করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাঁরা কিছুই চান না, শুধু বেঁচে থাকতে চান।’

তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের পর হাসানকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরে মিসরের টুর্নামেন্টে অগ্রযাত্রা উদযাপন করেন। তাঁর এই প্রতীকী পদক্ষেপ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

হাসানের বক্তব্য আরব বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকেই বলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর একটিকে তিনি খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাসানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি হাসানের অবস্থানকে ‘মানবিক ও মহৎ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাঁর ‘আন্তরিক সংহতির’ প্রশংসা করেন।

মিসরীয় ক্রীড়া সাংবাদিক আহমেদ এল-এরিয়ানও এক্সে হাসানের বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কোনো আসরে মিসর জাতীয় দলের একজন সদস্যের মুখে এমন বক্তব্য তিনি কখনো শোনার কথা কল্পনাও করেননি। এরিয়ান বলেন, হাসানের বক্তব্য ঐতিহাসিক মনে হয়েছে, কারণ তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল ‘আন্তরিক’ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল ‘ধারাবাহিক।’ তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, হাসানের এই বক্তব্য তাঁকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মিসরের যাত্রাপথের একটি গর্বের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি লেখক ইয়াসের জাআতরেহ এক্সে লেখেন, হাসান ‘বিশ্বকাপের চেয়েও বড় গৌরব’ অর্জন করেছেন। তাঁর ভাষায়, হাসান ‘মানবতা ও নীতির ম্যাচে’ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অটল থেকে হাসান ‘জনগণ এবং বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা মানুষের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক’ অর্জন করেছেন।

কায়রোতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সালিহ মুতলু সেনও এক্সে হাসানের প্রশংসা করেন। মিসর ও আল আহলির সাবেক গোলরক্ষক আহমেদ শোবেইরও এক্সে লেখেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে হাসান ‘অসাধারণ’ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের পতাকা প্রতিটি মিসরীয় ও প্রতিটি আরবের হৃদয়ে রয়েছে।’

আল জাজিরাও এক্সে গাজা থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হাসানকে ধন্যবাদ ও সম্মান জানাচ্ছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজার বাসিন্দারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের জন্য মিসরের এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

এসব প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, অনেকের কাছে হাসানের বক্তব্য ছিল ফুটবলের সম্মান ও ফেয়ার প্লের ভাষাকে মাঠের বাইরেও মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান। হাসান বলেন, ‘ফিফার স্লোগানে যেমন বলা হয়, ‘সম্মান ও ফেয়ার প্লে’, আমরাও জীবনে ন্যায়বিচার চাই। আমরা মানুষের প্রতি সম্মান চাই। আমরা চাই এই সত্যের প্রতি সম্মান জানানো হোক যে, একজন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’

বিষয় : গাজা উপত্যকা মধ্যপ্রাচ্য মিসর তুরস্ক ফিলিস্তিন

দৈনিক আজকের দিন

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ সংবাদ সম্মেলনে গত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আবেগঘন সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আরবিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘এই পৃথিবীতে যদি এমন একজন মানুষও থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না—তাহলে তিনি মানুষই নন।’ তিনি আরও বলেন, এটি প্রযোজ্য, ‘আরব, ইউরোপীয়, আমেরিকান বা অন্য যেকোনো পরিচয়ের’ ব্যক্তিই হোন না কেন।

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি বৈশ্বিক উদাসীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় কোনো প্রাণীর ক্ষতি হলে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়, অথচ ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, শিশু ও নারী নিহত হচ্ছেন।’ হাসান ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ফুটবলের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি ফুটবলকে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, অনুগ্রহ করে—সব ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী, তাঁদের ধর্ম বা দেশের পরিচয় যাই হোক না কেন, হয়তো বিশ্বকাপের মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে পারি—অনুগ্রহ করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। তাঁরা কিছুই চান না, শুধু বেঁচে থাকতে চান।’

তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের পর হাসানকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরে মিসরের টুর্নামেন্টে অগ্রযাত্রা উদযাপন করেন। তাঁর এই প্রতীকী পদক্ষেপ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

হাসানের বক্তব্য আরব বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকেই বলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর একটিকে তিনি খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাসানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি হাসানের অবস্থানকে ‘মানবিক ও মহৎ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাঁর ‘আন্তরিক সংহতির’ প্রশংসা করেন।

মিসরীয় ক্রীড়া সাংবাদিক আহমেদ এল-এরিয়ানও এক্সে হাসানের বক্তব্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক কোনো আসরে মিসর জাতীয় দলের একজন সদস্যের মুখে এমন বক্তব্য তিনি কখনো শোনার কথা কল্পনাও করেননি। এরিয়ান বলেন, হাসানের বক্তব্য ঐতিহাসিক মনে হয়েছে, কারণ তাঁর অনুভূতিগুলো ছিল ‘আন্তরিক’ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল ‘ধারাবাহিক।’ তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, হাসানের এই বক্তব্য তাঁকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মিসরের যাত্রাপথের একটি গর্বের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি লেখক ইয়াসের জাআতরেহ এক্সে লেখেন, হাসান ‘বিশ্বকাপের চেয়েও বড় গৌরব’ অর্জন করেছেন। তাঁর ভাষায়, হাসান ‘মানবতা ও নীতির ম্যাচে’ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অটল থেকে হাসান ‘জনগণ এবং বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা মানুষের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক’ অর্জন করেছেন।

কায়রোতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সালিহ মুতলু সেনও এক্সে হাসানের প্রশংসা করেন। মিসর ও আল আহলির সাবেক গোলরক্ষক আহমেদ শোবেইরও এক্সে লেখেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে হাসান ‘অসাধারণ’ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের পতাকা প্রতিটি মিসরীয় ও প্রতিটি আরবের হৃদয়ে রয়েছে।’

আল জাজিরাও এক্সে গাজা থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হাসানকে ধন্যবাদ ও সম্মান জানাচ্ছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজার বাসিন্দারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের জন্য মিসরের এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

এসব প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, অনেকের কাছে হাসানের বক্তব্য ছিল ফুটবলের সম্মান ও ফেয়ার প্লের ভাষাকে মাঠের বাইরেও মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান। হাসান বলেন, ‘ফিফার স্লোগানে যেমন বলা হয়, ‘সম্মান ও ফেয়ার প্লে’, আমরাও জীবনে ন্যায়বিচার চাই। আমরা মানুষের প্রতি সম্মান চাই। আমরা চাই এই সত্যের প্রতি সম্মান জানানো হোক যে, একজন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’


দৈনিক আজকের দিন

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাঈমুর রহমান দূর্জয়
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আজকের দিন
‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ
0:00 0:00
1.0x