ঢাকা    সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

নজরুলকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার তাগিদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু মঞ্চ, মিলনায়তন কিংবা বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনজীবনে প্রতিদিনের অনুষঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বাস, ট্রেন, বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপরিসরে নজরুলের গান, কবিতা ও বাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মানবিক, সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও বিস্তৃত হবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দিনব্যাপী এক সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মত তুলে ধরেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, গবেষক, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, নজরুলচর্চাকে রাজধানীকেন্দ্রিক রাখলে জাতীয় কবির সৃষ্টির প্রকৃত বিস্তার সম্ভব নয়। তাই জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরুল উৎসব, গবেষণা কার্যক্রম, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে দেশের বাইরে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর সাহিত্য ও সংগীত নতুনভাবে পরিচিতি পায়। বক্তারা বলেন, নজরুলের গান শুধু শিল্পীদের পরিবেশনের বিষয় নয়; তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তা শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের চর্চা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত, গবেষণা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব শোনেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চাই পারে মাদক, উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে লোকসংস্কৃতি ও জাতীয় কবির সাহিত্য-সংগীতকে শিক্ষার মূলধারায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ সময় তিনি প্রাথমিক স্তর থেকেই নজরুলের গান, কবিতা ও লেখাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে একাডেমি বছরজুড়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। শিল্পী ও গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে সেসব কর্মসূচিকে আরও জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর করে তোলাই এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। উপস্থিত ছিলেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, ফেরদৌস আরা, কল্পনা আনাম, ফাতেমা তুজ জোহরা, সুজিত মোস্তফা প্রমুখ।