এবার ফরিদপুরের মারুফের তৈরি বিমান উড়ল আকাশে
গত এক বছর আগে প্রথমে প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়ে চমক দেখিয়েছিলেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা মহল্লার যুবক মারুফ মোল্যা। তিনি এবার এক আসনের বিমান তৈরি করে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছেন।
ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখে আসছিলেন মারুফ। কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রপাড়ে প্যারাগ্লাইডারে মানুষ উড়তে দেখে প্রথম আকাশে উড়ার ইচ্ছা জাগে তার। এরপর ইউটিউব দেখে প্যারাগ্লাইডার তৈরির চেষ্টা চালিয়ে ৬ মাস পর সফল হন তিনি।
এরপর মানিকগঞ্জের জুলহাসের তৈরি প্লেন আকাশে উড়তে দেখে তাকে পেয়ে বসে প্লেন তৈরির নেশায়। গত প্রায় ৭ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে প্রথমবারের মতো তার তৈরি ছোট এক আসনের বিমানটি আকাশে উড়তে সক্ষম হয়। যদিও বিমানটি বেশি উপড়ে উঠতে পারেনি। তারপরও হাল ছাড়ার পাত্র নন মারুফ। পরিবারের দারিদ্র্যতার কারণে এসএসসি পাশের পর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। কিন্তু তার মনোবল এবং আকাশে উড়ার আকাঙ্খা তাকে কোনোভাবেই দমাতে পারেনি।
গত বছর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে চমক দেখিয়েছিলেন মারুফ। এবার তার তৈরি বিমান আকাশে উড়িয়ে সবার মাঝে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। এই বিমান দেখতে তার বাড়িতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এবং বিমানটি উড়ার সময় শতশত মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই কিছু না কিছু তৈরি করত মারুফ। হঠাৎ দেখা গেল প্যারাগ্লাইডারে আকাশে উড়ছে মারুফ। এবার তার তৈরি বিমান আকাশে উড়তে দেখে গ্রামের আনেকেই এখন গর্ব প্রকাশ করছেন। এছাড়া তিনি ইলেকট্রিক্যাল থেরাপি মেশিন তৈরি করেছেন। যাদের হাত-পা ঘামে তারা এ মেশিনের সাহায্যে উপকার পেতে পারেন।
স্থানীয় সাংবাদিক প্রভাত কুমার সাহা বলেন, মারুফের তৈরি বিমান আকাশে উড়ার পর এলাকার মানুষের মাঝে আনন্দ বইছে। যদিও মাত্র কয়েক ফুট উপড়ে উঠতে পেরেছে। আকাশে উড়ার খবর শুনে দেখতে এসেছি।
মারুফ মোল্লা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার ইচ্ছে ছিল। আমি গত বছর প্রায় ৬ মাসের প্রচেষ্টার পর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছি। এবার ছোট আকারের একজন বহনকারী বিমানে আকাশে উড়তে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আমার তৈরি বিমান নিয়ে কীভাবে আরও উচুতে উঠতে পারি সেই চেষ্টাই করছি। কিছু অভিজ্ঞতা ও সাহস সঞ্চয় করে আকাশে উড়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। আরও পড়ুনআরও পড়ুনমালবোঝাই ভ্যান ঠেলে চালককে সহায়তা করলেন এমপি, ভিডিও ভাইরাল
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে প্যারাগ্লাইডার আনতে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু আমি মাত্র ১ লাখ টাকায় এটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আর একটি ছোট বিমান কিনতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়। সেখানে আমার তৈরি ছোট বিমান তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকার মতো। যদি সরকারের সহযোগিতা পাই, তবে বিমান তৈরি করার ইচ্ছে রয়েছে আমার। এর জন্য অনেক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, আমি সরকারের সহযোগিতা চাই।
চরবিষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মারুফের উদ্ভাবনী মেধা রয়েছে। তাকে যদি সহযোগিতা করা যায় তাহলে আমাদের উপজেলার সুনাম বয়ে আনবে। তার তৈরি বিমান উড়ার কথা শুনেছি। এছাড়া মারুফের তৈরি নতুন নতুন অবদান এলাকার মানুষের মধ্যে এক নতুন সম্ভাবনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।