ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন

আমেরিকানদের আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে খাদ্য ও আবাসনে


| প্রিন্ট | ফটো কার্ড

আমেরিকানদের আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে খাদ্য ও আবাসনে

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে খাবার ও বাসস্থানের পেছনে। ফলে শিক্ষা, বিনোদনসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি পয়সার হিসাব অনুভব করছেন।

ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন ভোক্তাদের মোট ব্যয়ের ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ গেছে খাদ্য ও বাসস্থানের পেছনে। ১৫ বছরের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। এর পেছনে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএলএসের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় বাসস্থান খাতে ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। খাদ্য খাতে বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার পেছনে মানুষের ব্যয়ও এখন ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২৫ সালে একটি গড় পরিবার আবাসনের পেছনে ২৭ হাজার ৭৯০ ডলার ব্যয় করেছে, যা ২০২৪ সালের ২৬ হাজার ২৬৬ ডলারের তুলনায় বেশি। বাসস্থান খাতের মধ্যে বাড়ি ভাড়া, বাড়ির মালিকানাসংক্রান্ত ব্যয়, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল, আসবাব ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে দেশটিতে ভাড়া বাসায় থাকার খরচও বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া নিজের বাড়িতে বসবাসের ব্যয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত বছর বাসস্থানের জন্য গড় ব্যয় বেড়েছে ৮ শতাংশ।

খাদ্য বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে একজন গড় ভোক্তা খাদ্যের পেছনে ১০ হাজার ৬৩৩ ডলার ব্যয় করেছেন, যা আগের বছরের ১০ হাজার ১৬৯ ডলারের চেয়ে বেশি। এই বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মাংস, পোল্ট্রি, মাছ ও ডিমের পেছনে ব্যয়ের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

খাবার ও বাসস্থানের পাশাপাশি চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতেও ব্যয় বেড়েছে। ২০২৫ সালে চিকিৎসা খাতে গড় বার্ষিক ব্যয় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৯৭ ডলার। এর বড় অংশ গেছে স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধে। স্বাস্থ্য বীমার পেছনে গড় ব্যয় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে মার্কিন ভোক্তাদের মনোভাবেও। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের অক্টোবর মাসের ‘কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স’ বা ভোক্তা মনোভাব সূচক ছিল ৪৮ পয়েন্টে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৪৮ দশমিক ১। অন্যদিকে গত বছরের অক্টোবরে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তা আস্থা কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের 'সার্ভেস অফ কনজিউমারস'-এর পরিচালক এবং অর্থনীতিবিদ জোয়ান সু জানিয়েছেন, অর্থনীতি সম্পর্কে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিই প্রধান প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সু বলেন, চলতি মাসে ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ উপ-সূচকে যে অবনতি দেখা গেছে, তার পুরো কারণ হলো টেকসই পণ্য কেনার পরিস্থিতির অবনমন। উচ্চ সুদের হার এবং এসব পণ্য কেনার সামর্থ্য নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগের কারণে এই সূচকটি ১৮ শতাংশ কমে গেছে। অর্থনীতির বিষয়ে ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিই প্রধান প্রভাব বিস্তার করে আছে। বর্তমানে মানুষের মনোভাব এক বছর আগের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং ইরান সংঘাতের ঠিক আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫ শতাংশ নিচে রয়েছে।আরবান ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় এখন ভাড়াটিয়াদের মাসিক বাড়ি ভাড়া গড়ে ৭১০ ডলার বেশি। অন্যদিকে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারগুলোর শিশু পরিচর্যার বার্ষিক ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় বেড়েছে ৬ হাজার ৬০০ ডলার।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও আর্থিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। গত জুলাই ও আগস্টে পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেয়া ৪৪ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক জানান, চিকিৎসা, যাতায়াত, বাড়ি ভাড়া বা বন্ধকি ঋণের কিস্তি ও খাবারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা অন্তত একবার আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭১ শতাংশ।

সূত্র: ফরচুন।

বিষয় : আমেরিকান আয় খাদ্য ও আবাসনে

দৈনিক আজকের দিন

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


আমেরিকানদের আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে খাদ্য ও আবাসনে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে খাবার ও বাসস্থানের পেছনে। ফলে শিক্ষা, বিনোদনসহ জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি পয়সার হিসাব অনুভব করছেন।

ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন ভোক্তাদের মোট ব্যয়ের ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ গেছে খাদ্য ও বাসস্থানের পেছনে। ১৫ বছরের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। এর পেছনে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএলএসের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় বাসস্থান খাতে ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। খাদ্য খাতে বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার পেছনে মানুষের ব্যয়ও এখন ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২৫ সালে একটি গড় পরিবার আবাসনের পেছনে ২৭ হাজার ৭৯০ ডলার ব্যয় করেছে, যা ২০২৪ সালের ২৬ হাজার ২৬৬ ডলারের তুলনায় বেশি। বাসস্থান খাতের মধ্যে বাড়ি ভাড়া, বাড়ির মালিকানাসংক্রান্ত ব্যয়, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল, আসবাব ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে দেশটিতে ভাড়া বাসায় থাকার খরচও বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া নিজের বাড়িতে বসবাসের ব্যয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত বছর বাসস্থানের জন্য গড় ব্যয় বেড়েছে ৮ শতাংশ।

খাদ্য বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে একজন গড় ভোক্তা খাদ্যের পেছনে ১০ হাজার ৬৩৩ ডলার ব্যয় করেছেন, যা আগের বছরের ১০ হাজার ১৬৯ ডলারের চেয়ে বেশি। এই বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মাংস, পোল্ট্রি, মাছ ও ডিমের পেছনে ব্যয়ের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

খাবার ও বাসস্থানের পাশাপাশি চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতেও ব্যয় বেড়েছে। ২০২৫ সালে চিকিৎসা খাতে গড় বার্ষিক ব্যয় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৯৭ ডলার। এর বড় অংশ গেছে স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধে। স্বাস্থ্য বীমার পেছনে গড় ব্যয় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে মার্কিন ভোক্তাদের মনোভাবেও। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের অক্টোবর মাসের ‘কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স’ বা ভোক্তা মনোভাব সূচক ছিল ৪৮ পয়েন্টে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৪৮ দশমিক ১। অন্যদিকে গত বছরের অক্টোবরে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তা আস্থা কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের 'সার্ভেস অফ কনজিউমারস'-এর পরিচালক এবং অর্থনীতিবিদ জোয়ান সু জানিয়েছেন, অর্থনীতি সম্পর্কে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিই প্রধান প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সু বলেন, চলতি মাসে ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ উপ-সূচকে যে অবনতি দেখা গেছে, তার পুরো কারণ হলো টেকসই পণ্য কেনার পরিস্থিতির অবনমন। উচ্চ সুদের হার এবং এসব পণ্য কেনার সামর্থ্য নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগের কারণে এই সূচকটি ১৮ শতাংশ কমে গেছে। অর্থনীতির বিষয়ে ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিই প্রধান প্রভাব বিস্তার করে আছে। বর্তমানে মানুষের মনোভাব এক বছর আগের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং ইরান সংঘাতের ঠিক আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫ শতাংশ নিচে রয়েছে।আরবান ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় এখন ভাড়াটিয়াদের মাসিক বাড়ি ভাড়া গড়ে ৭১০ ডলার বেশি। অন্যদিকে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারগুলোর শিশু পরিচর্যার বার্ষিক ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় বেড়েছে ৬ হাজার ৬০০ ডলার।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও আর্থিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। গত জুলাই ও আগস্টে পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেয়া ৪৪ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক জানান, চিকিৎসা, যাতায়াত, বাড়ি ভাড়া বা বন্ধকি ঋণের কিস্তি ও খাবারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা অন্তত একবার আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭১ শতাংশ।

সূত্র: ফরচুন।


দৈনিক আজকের দিন

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নাঈমুর রহমান দূর্জয়
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক আজকের দিন
আমেরিকানদের আয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে খাদ্য ও আবাসনে
0:00 0:00
1.0x