আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছেন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ বছরের এক বর্ণাঢ্য ও রেকর্ডময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। পর্তুগালের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দীর্ঘ পথচলায় তিনি ৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম সোনালি অক্ষরে খোদাই করে বিদায় নিয়েছেন।
রোনালদোর এই বিদায় তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির সাথে তার ঐতিহাসিক দ্বৈরথকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে মোট ১৪৬টি গোল করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের গোলসংখ্যার তালিকায় সর্ব শীর্ষে টিকিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা ২০৮ ম্যাচে ১২৬টি। অর্থাৎ, অবসরে যাওয়ার আগে মেসির চেয়ে ২০টি গোল বেশি নিয়ে নিজের রেকর্ডটি ধরাছোঁয়ার বাইরেই রেখে গেছেন সিআর সেভেন। এই ব্যবধানটি সামান্য নয়; দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে পর্তুগালের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হিসেবে টিকিয়ে রেখে রোনালদো এই মাইলফলক গড়েছেন, যা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২০০৩ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলের সিনিয়র দলে রোনালদোর অভিষেক হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি এমন একটি প্রজন্মের নেতৃত্ব দেন যারা পর্তুগালকে ইউরোপীয় ফুটবলের শিখরে পৌঁছে দেয়। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক অর্জন ছিল ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। এই সাফল্যের পাশাপাশি তিনি ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জয় করেন। ১৪৬টি গোলের পাশাপাশি পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ২৩৪টি ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক রেকর্ডও নিজের নামের পাশে রেখে গেছেন এই পর্তুগিজ লিজেন্ড।
বিশ্ব ফুটবলের একটি পুরো যুগ জুড়েই লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্সের তুলনা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। একদিকে মেসি যেমন আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জয় করেছেন, অন্যদিকে রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান ট্রফি জয়কে নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ মুকুট হিসেবে অর্জন করেছেন।
সূত্র: মার্কা