ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
বন্যাকবলিত বাঁশখালী যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

বন্যাকবলিত বাঁশখালী যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাবন্যাকবলিত চট্টগ্রামের বাঁশখালী পরিদর্শনে শুক্রবার যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সকাল ৭টার ফ্লাইটে তার চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে সকাল ১০টা থেকে তিনি বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব (উপসচিব) মুহাম্মদ ইব্রাহীম স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাঁশখালীর জন্য নগদ ২০ লাখ টাকা, ২০০ টন চাল এবং ২০০ বান টিন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি ডিও লেটারও জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যার পর আবারো ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এসব কথা জানান। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরো ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসঙ্কটে না পড়েন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দফতর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, এনজিও ইপসা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসব দল। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাসস

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন

ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।  বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সিনিয়র তথ্য অফিসার (জনসংযোগ কর্মকর্তা) মো. রেজুয়ান খান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই বৈরী আবহাওয়া থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সব জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে সর্বাত্মক পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান। ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন এবং আমাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কঠিন এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করার প্রতি বিশেষ জোর দেন। উল্লেখ্য, ৪২ বছরের রেকর্ড ভেঙে হওয়া এই ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের