ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
ঋতু পরিবর্তনের সময় দরকার ত্বকের বাড়তি যত্ন, নেবেন যেভাবে

ঋতু পরিবর্তনের সময় দরকার ত্বকের বাড়তি যত্ন, নেবেন যেভাবে

যে ঋতুই আসুক না কেন, ত্বক যেন উজ্জ্বল থাকে— এটাই আমাদের নিত্য চাওয়া। কিন্তু বাস্তবে সবসময় তেমনটি হয় না। আবহাওয়া বদলালেই দেখা যায় ত্বক কেমন যেন শুষ্ক, কালচে কিংবা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ব্র্যান্ডেড স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট মেখেও লাভের লাভ কিছুই হয় না। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বক সুস্থ রাখতে হলে ডিহাইড্রেটেড হতে দেওয়া চলবে না। তার জন্য গাদা গাদা ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম মেখে নেওয়াটা কিন্তু সমাধান নয়। আসলে অনেকেই ‘ময়েশ্চারাইজেশন’ ও ‘হাইড্রেশন’-এর মধ্যে আসল পার্থক্যটা বোঝেন না। ত্বকের যত্নে এ দুটির গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই ‘ময়েশ্চারাইজেশন’ ও ‘হাইড্রেশন’-এর মধ্যে আসল পার্থক্যটা বোঝেন না। ত্বকের যত্নে এ দুটির গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা রয়েছে। ত্বকের যত্নে এ দুটি শব্দের কাজ দুই রকম। হাইড্রেশন: এটি ত্বকের কোষের ভেতরে পানির পরিমাণ কিংবা ওয়াটার কনটেন্ট বজায় রাখে। ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও বাউন্সি করে তোলে। ময়েশ্চারাইজেশন: এটি ত্বকের উপরিভাগে একটি স্তর তৈরি করে ভেতরে থাকা পানি কিংবা আর্দ্রতাকে লক করে রাখে। অনেকেই ভাবেন তৈলাক্ত ত্বকে হাইড্রেশনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সত্যিটা হলো—  অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকও ভেতর থেকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। আর ত্বক ডিহাইড্রেটেড হলেই তা নিষ্প্রাণ ও অনুজ্জ্বল দেখায়। প্রায় সারা বছরই মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ও আর্দ্রতার হেরফের এবং তীব্র গরমের সম্মুখীন হতে হয়। ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, ত্বক যদি ডিহাইড্রেটেড বা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত পিগমেন্টেশন ও কালচে দাগছোপ দেখা দেয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনতরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ নিয়ে নতুন তথ্য চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বক ভালো রাখতে কয়েকটি সহজ টিপস— ১. ভারি ক্রিমের বদলে এমন জেল বেছে নিন যাতে অ্যালোভেরা রয়েছে। অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে পানিতে ভরপুর এবং এটি ত্বককে ঠান্ডা ও শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ২. ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কড়া ফেসওয়াশ ছেড়ে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয় না। ৩. স্কিন ব্যারিয়ার ভালো থাকলে ত্বক বাইরের ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তাই মাল্টিপল প্রোডাক্টের লেয়ারিং না করে কম প্রোডাক্টে মিনিমালিস্টিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলুন। ৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া এবং ৭-৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে জেল্লাদার করে তোলে।

প্রাকৃতিক উপায়ে পাকা চুলে আনুন কালো বা খয়েরি আভা

অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা এখন অনেকের। বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে সময়ের আগেই চুলে সাদা ছোপ দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা ঢাকতে অনেকেই রাসায়নিক হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন। তবে এসব ডাইয়ে থাকা অ্যামোনিয়া, প্যারাবেন ও অন্যান্য রাসায়নিক দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকিও থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তুলনামূলক নিরাপদভাবে চুলে রং আনা সম্ভব। যদিও এসব প্রাকৃতিক ডাইয়ের রং স্থায়ী নয়, তবে নিয়মিত ব্যবহারে চুলে সুন্দর প্রাকৃতিক আভা ফুটে ওঠে। হালকা বার্গান্ডি বা লালচে আভা পেতে একটি মাঝারি আকারের বিটরুটের রসের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল বা আর্গান অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। এক ঘণ্টা পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে ধীরে ধীরে চুলে লালচে আভা দেখা দিতে পারে। গাঢ় কালো রং চাইলে আমলকি গুঁড়া, মেহেদি, ও সামান্য কফির মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পেস্ট ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চুলে রেখে ধুয়ে ফেললে নিয়মিত ব্যবহারে কালো আভা ফুটে উঠতে পারে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গাঢ় খয়েরি রং পেতে কফি মেশানো পানি দিয়ে মেহেদির পেস্ট তৈরি করে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে চুলে ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেললে চুলে খয়েরি আভা আসে। তবে প্রাকৃতিক উপাদান হলেও প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। পাশাপাশি ভালো ফল পেতে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধু প্রাকৃতিক ডাই নয়, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত পরিচর্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাকৃতিক উপায়ে পাকা চুলে আনুন কালো বা খয়েরি আভা