রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেছেন, দলের নাম কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকে জানালে তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
শুক্রবার রাজধানীর রূপনগরে রূপনগর থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃহত্তর রূপনগর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘কোনো চাঁদাবাজ ও দখলদার আমাদের লোক হতে পারে না। কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা দখলদারত্ব করলে সবার আগে তাকে ধরে পুলিশে দেবেন। আপনারা না পারলে আমাকে জানাবেন, আমি তাদের আইনের হাতে তুলে দেব।’
সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্ররাই পারে আগামীর বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে। সমাজের নানা সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
আমিনুল হক বলেন, পল্লবী-রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় পর্যায়ক্রমে স্পোর্টিং ক্লাব, ক্রীড়া একাডেমি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। তাঁদের লক্ষ্য শুধু ডাক্তার, প্রকৌশলী বা সরকারি চাকরিজীবী তৈরি করা নয়; একজন খেলোয়াড় হিসেবেও যেন তরুণেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করা।
তিনি জানান, পল্লবী ও রূপনগরে ইতিমধ্যে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার রূপনগরে আরও ১৮টি ক্লাব উদ্বোধন করা হলো। আগামী শুক্রবার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১২টি ক্লাব উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
এলাকার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ এবং দু’টি সুইমিং পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রূপনগরের মুকুল ফৌজ মাঠও রয়েছে। মাঠটিতে কৃত্রিম ঘাস, চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী, আলোর ব্যবস্থা এবং হাঁটার পথ তৈরি করা হবে। যাতে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীরাও মাঠটি ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি সুইমিং পুল শিশুদের সাঁতার শেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধন করা প্রতিটি স্পোর্টিং ক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়েও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কাজ করবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে নিজেদের ও পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
বৃহত্তর মিরপুরে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় অসুস্থ রোগীদের কুর্মিটোলা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী বা শিশু হাসপাতালে যেতে হয়। এতে রোগীদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তিনি জানান, পল্লবী সরকারি কলেজের পেছনে সাগুফতা মোড় এলাকায় প্রায় ১০ একর জমি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া এলাকার দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য সরকারিভাবে চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা গেলে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, একটি বিরোধী দল জনগণের কাছে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিজেকে এলাকার সন্তান ও সাধারণ মানুষের একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন। জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাদককে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারলেই সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।