ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক আজকের দিন
নিউজিল্যান্ডে ৪৩ তিমির মৃত্যু

নিউজিল্যান্ডে ৪৩ তিমির মৃত্যু

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের দুর্গম পূর্ব উপকূলে আটকে পড়ে ৪৩টি পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, উপকূলের পাথুরে এলাকায় আটকে পড়া তিমিগুলোকে উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবক ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত কোনো তিমিকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগ (ডিওসি) জানায়, নর্থ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের এনগাউই উপকূলে তিমিগুলো আটকা পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার কিছু পর ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর সংরক্ষণ বিভাগের কর্মী, মাওরি আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ডিওসির ওয়াইরারাপা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অপারেশনস ম্যানেজার আরিয়ানা হাওইরা বলেন, আটকে পড়া কোনো তিমিই বেঁচে আছে বলে মনে হচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা জীবিত কয়েকটি তিমিকে আবার গভীর পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দুর্গম অবস্থান, প্রবল ঢেউ ও জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী এলাকার ধারালো পাথরের কারণে অভিযান ব্যাহত হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সংগঠন প্রজেক্ট জোনাহ জানায়, কয়েক কিলোমিটার উপকূলজুড়ে ৪০ থেকে ৫০টি তিমি আটকা পড়েছিল। উদ্ধারের আগেই অনেক তিমির মৃত্যু হয়। জীবিত অবস্থায় পাওয়া তিমিগুলোও ধীরে ধীরে মারা যায়। ডিওসি জানিয়েছে, তিমিগুলোর মরদেহ সমাহিত করার বিষয়ে মাওরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। মাওরিদের কাছে তিমি পবিত্র সম্পদ বা ‘তাওঙ্গা’ হিসেবে বিবেচিত। নিউজিল্যান্ডে এভাবে গণহারে তিমি ও ডলফিনের আটকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। ১৮৪০ সাল থেকে দেশটিতে এ ধরনের পাঁচ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত রয়েছে। পাইলট তিমি মূলত ডলফিন পরিবারের সদস্য। তারা দৈর্ঘ্যে সাত মিটার ও ওজনে তিন টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রজাতিটি প্রায় সময়ই দল বেঁধে এভাবে আটকে পড়ার জন্য পরিচিত হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়।